Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘নাব্যতা সংকট আর দুর্বল বাঁধের কারণেই বন্যা’

‘নাব্যতা সংকট আর দুর্বল বাঁধের কারণেই বন্যা’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
কাজল সরকার
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

পানি খুব বেশি আসছে না, তারপরও বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এর কারণ মূলত নদীগুলোর নাব্যতা সংকট ও দুর্বল বাঁধ। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

তাদের মতে, ১০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে নদী ও হাওরে পানি অনেক কম হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সহজেই ভেঙে যায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর একমাত্র কারণ নদীগুলোর নাব্যতা সংকট ও দুর্বল প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর থেকে মুক্তি পেতে নদীগুলো খনন ও প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সাথে পরিকল্পিতভাবে হাওর উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ তাদের।

সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট শিব্বির আহমেদ আরজু বলেন, ‘আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে যে পরিমাণ পানি হতো এখন তার অর্ধেক পানিও হয় না। কিন্তু এরপরও বন্যা দেখা দেয়। এর একমাত্র কারণ হলো নদীর নাব্যতা কমে গেছে। আগে নদীগুলোর যে পরিমাণ পানি ধারণ ক্ষমতা ছিল, এখন এর অর্ধেকও নেই। যার ফলে অল্প পানিতেই নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।’

Flood

তিনি বলেন, ‘শুধু নদীর নাব্যতা সংকটই নয়, প্রতিটি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের করুণ অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এই দুর্বল বাঁধগুলোকে সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অল্প পানিতে বন্যার কবল থেকে বাঁচতে নদীগুলো খনন করতে হবে। একই সাথে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যা কমপক্ষে ১০০ বছর টেকে। সেইসাথে বাঁধগুলোকে যেন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষতি না করতে পারে সেদিকে তদারকি থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবশে আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘হাওর ও হাওরের মানুষ আমাদের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু হাওর উন্নয়ন হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। যার ফলে প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে হাওরের মানুষদের। একই সাথে কমে যাচ্ছে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলজ প্রাণী।’

তিনি বলেন, ‘হাওরের বুক দিয়ে যত্রতত্র রাস্তা করা হয়েছে। ফলে হাওর সম্পূর্ণভাবে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় পানি আন্দোলিত হতে পারছে না। অথচ এখানে রাস্তাগুলো পরিকল্পতিভাবে করা হলে একদিকে যেমন হাওরের সম্পদ রক্ষা পেত, অন্যদিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত পেত আমাদের হবিগঞ্জ।’

তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে, যেন আমাদের প্রাণী ও সম্পদের ক্ষতি না হয়। একই সাথে নদীগুলো খনন করতে হবে। তাহলেই বিভিন্ন প্রাকৃতি দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’

Flood

দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষার আন্দোলনের সাথে জড়িত কবি ও সাহিত্যিক তাহমিনা বেগম গিনি। তাঁর মতে- বন্যাসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য দায়ী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা। নদীগুলো প্রতিনিয়ত ভরাট হচ্ছে, কিন্তু খনন করা হচ্ছে না। এছাড়া দখল ও দুষণ করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ। বিভিন্ন স্থানে দখল করা হয়েছে নদী ও প্রতিরক্ষা বাঁধ। এর ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার দেখা দেয়।

তিনি বলেন, ‘এর থেকে বাঁচতে সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের নদী বাঁচাতে আরও সচেষ্ট হতে হবে। নদীগুলো খননের পাশাপশি বাঁধগুলো শক্তিশালী করতে হবে।’

জেলা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, ‘ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের অনেকগুলো নদী খনন করা হয়েছে। আমাগী বছর আরও নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নদীর বাঁধগুলো সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘এক হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কারের প্রস্তাবনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি পাস হবে। আর এই কাজটি হলে আগামী একশ’ বছরের জন্য খোয়াই নদীর বাঁধ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।’

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মেহেদী হাসান তালুকদার মীম (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মীম কামারখন্দ উপজেলার হালুয়াকান্দি গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে ও কামারখন্দ হাজী করপ আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাস করেছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, গত বুধবার (১৪ আগস্ট) ডেঙ্গু শনাক্তের পর থেকে মীম বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি
আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও দারিয়াপুর হাটসহ সকল হাট বাজারে আমনের চারা (বিছন) ক্রয় বিক্রয়ে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আয়োজনে স্থানীয় দারিয়াপুর হাটের চারমাথা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুল ইসলাম মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, কৃষক সমিতির জেলা সহ-সভাপতি সন্তোষ বর্মণ, সদর উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল, দারিয়পুর অঞ্চল কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি গুলবদন সরকার, সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম মাস্টারসহ অনেকে।

বক্তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। সেই সঙ্গে ইরি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে যাতে আমন চারা ক্রয় বিক্রয়ে কোনো প্রকার টোল আদায় না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র