Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শুকনো খাবার-বিশুদ্ধ পানির সংকট
বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রৌমারীর এই বৃদ্ধ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কুড়িগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এ চিত্র এখন কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের ৫৬টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক পরিবারের।

এসব পরিবারের প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন। এদের বেশির ভাগই পানির ওপরে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাত যাপন করছেন। খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে এ পরিবারগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361590191.gif

আর যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। কোথাও কোথাও বন্যা দুর্গতদের আশ্রিত স্থানেও হানা দিয়েছে বন্যার পানি। অনেক পরিবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দোকান থেকে কেনা শুকনো খাবারের উপর। কিন্তু নগদ টাকার অভাবে অনেক পরিবারের ভাগ্যে জুটছে না সেই খাবার টুকুও।

বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে খুপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাবু টানিয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে বসবাস করলেও অনেক পরিবার পলিথিন বা ত্রিপলের অভাবে রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন নারীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361887840.gif

এদিকে সরকারি হিসাবেই জেলায় প্রায় সোয়া ছয় লাখ মানুষ বন্যাদুর্গত হয়ে শুকনো খাবারের সংকট নিয়ে বসবাস করলেও জেলা প্রশাসন থেকে তাদের জন্য দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রৌমারী উপজেলার চর বন্দবের ইউনিয়নের সাধু শেখের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘বন্যায় খুব দুর্ভোগে আছি। রান্না করার উপায় নাই। ঘরে শুকনো খাবারও নাই। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাঁচার উপায় থাকবে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361626587.gif

বন্দবের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, ‘ইউনিয়নের ৪৭ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত, এদের বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদসহ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। এসব বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১১০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপঙ্কর রায় জানান, ‘উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563361643993.gif

জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১০০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বন্যার পানির চাপে জেলার রৌমারী, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ছিড়ে ও সড়ক-মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তা ঢুকে পড়ছে উঁচু এলাকার গ্রাম ও হাটবাজারগুলোতে।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘৯ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা কবলিতদের মধ্যে শুকনো খাবার কিনে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে চার লাখ ৮৮ হাজার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিতরণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি
আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও দারিয়াপুর হাটসহ সকল হাট বাজারে আমনের চারা (বিছন) ক্রয় বিক্রয়ে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আয়োজনে স্থানীয় দারিয়াপুর হাটের চারমাথা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুল ইসলাম মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, কৃষক সমিতির জেলা সহ-সভাপতি সন্তোষ বর্মণ, সদর উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল, দারিয়পুর অঞ্চল কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি গুলবদন সরকার, সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম মাস্টারসহ অনেকে।

বক্তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। সেই সঙ্গে ইরি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে যাতে আমন চারা ক্রয় বিক্রয়ে কোনো প্রকার টোল আদায় না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় ২ শতাধিক কোচ

দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় ২ শতাধিক কোচ
দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় বাসের দীর্ঘ সারি

রাত যত বাড়ছে ততই নৈশ কোচের চাপ বাড়ছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে। নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক কোচ।

দুপুরের পর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন কোন চাপ ছিল না। তবে লোকাল বাসের যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল দিনভর। সন্ধ্যা লাগার পর থেকে লোকাল বাসের যাত্রীদের চাপ কমলেও এখন নৈশ কোচের চাপ বেড়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টায় সরেজমিন দেখা যায় দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় দুই শতাধিক নৈশ বাস। রাতে বাসের সারি আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566057794700.jpg

তবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও খুব বেশি সময় নদী পারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না বলে আশা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের শাখা ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, যানবাহন পার করার জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬টি পন্টুনই সচল রয়েছে। তাছাড়া ১৯টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে। আশা করছি নদী পারের জন্য ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনগুলোকে অপেক্ষা করতে হবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র