Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

৩৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন সেই মা মলি রাণী

৩৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন সেই মা মলি রাণী
পরীক্ষায় পাসের খুশিতে মা মলি রাণীকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন ছেলে মৃন্ময় কুমার। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

বয়সের বাধাকে উপেক্ষা করে নাটোরের বাগাতিপাড়ার আলোচিত সেই মা মলি রাণী (৩৭) এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ ৩ দশমিক ৯৬ পেয়ে পাস করেন তিনি। এর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে আলোচনায় আসেন তিনি।

চলতি বছর বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মলি রাণী। তিনি ওই কলেজের উদ্যোক্তা উন্নয়ন ট্রেডের ছাত্রী ছিলেন।

এদিকে ছেলে মৃন্ময় কুমার এসএসসি পাসের পর নাটোরের টিএমএস পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে চতুর্থ সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন।

এর আগে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলের চেয়ে ভালো ফলাফল করেন মা মলি রাণী। তিনি পেয়েছিলেন জিপিএ ৪ দশমিক ৫৩ এবং ছেলে মৃন্ময় কুমার পান জিপিএ ৪ দশমিক ৪৩ । সে সময় কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মলি বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ট্রেডের এবং ছেলে মৃন্ময় বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উদ্যমী ওই নারী মলি রাণীকে নিয়ে ২০১৭ সালে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আলোচনায় আসেন তিনি। সে সময় মলি রাণীর সাফল্যে তৎকালীন এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সদ্যপ্রয়াত বইপ্রেমী পলান সরকার তার বাড়িতে ছুটে আসেন। আর তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মা ও ছেলেকে ডিসি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপ উপহার দেন। উপজেলা প্রশাসন মা দিবসে সংবর্ধনা দেয় মলি রাণীকে। এরপর কলেজে ভর্তি হলে অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহম্মেদ বিনা খরচে মলি রাণীর পড়ালেখার দায়িত্ব নেন।

মলি রাণী জানান, যখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী, তখন তার বাবা বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার মিন্টুর সঙ্গে বিয়ে দেন। তার বাবার বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুরে। বাবার নাম অসিত কুন্ডু। এরপর আর পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি। সংসারের চাপে পিষ্ট হয়ে গৃহিণীই রয়ে যান। এরই মধ্যে দুটি সন্তানের জন্ম দেন। বড় ছেলে মৃন্ময় কুমার এবং ছোট ছেলে পাপন। ছেলেদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে তিনি অনুভব করেন তার নিজের পড়ালেখা জানা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই স্কুলে ভর্তি হন মলি রাণী।

আপনার মতামত লিখুন :

শীতলক্ষ্যার তীরে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

শীতলক্ষ্যার তীরে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
শীতলক্ষ্যার তীর হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অর্ধশত কাঁচা পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। একই সঙ্গে নদী ভরাট করায় অ্যাসকোয়ার গার্মেন্টসকে নগদ ৫০ হাজার ও জয়া অ্যাপারেলস নামক গার্মেন্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শীতলক্ষ্যায় তৃতীয় দফায় তৃতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালিত হয়। এদিন নদীর তীরে একটি ৬তলা ভবনের আংশিক, জয়া অ্যাপারেলস, স্ক্যান সিমেন্ট, ডেল্টা ডকইয়ার্ড, সোনালী পেপার মিলস, রহমান কেমিক্যালসের আংশিক অংশ সহ অর্ধশত স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

শীতলক্ষ্যার তীরে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, অনেকেই গুলশান বনানীতে থাকেন অথচ নদীর তীরে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করে নাম দেন নদী বিলাস। শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি শীত মৌসুমের পূর্বে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে নদীর তীর রক্ষায় সীমানা পিলার, ওয়াকওয়ে বনায়নের মাধ্যমে নদীর তীরে বসন্তের আবহাওয়া ফিরিয়ে আনা হবে।

শীতলক্ষ্যার তীরে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর তীর দখল ও ভরাটকারীরা কখনোই মানতে চান না। তারা বলেন, ভূমি অফিস থেকে তাদেরকে জমি মেপে বুঝিয়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়। তবে দখলদাররা যতই বলুক না কেন নদী দখলের বিষয়টি দৃশ্যমান। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বিবদমান একটি বাড়ির প্রাচীর ভেঙে দেয়ার কিছু দিন পর সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বাড়ির প্রাচীর ভাঙা নিয়ে আদালতে একটি মামলা রয়েছে। অথচ মামলার বিষয়টি তোয়াক্কা না করে নিজে উপস্থিত থেকে ওই বাড়ির ভেতরে পানি, বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে দেন পৌর মেয়র। এ কারণে তিনি আদালত অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজুল আলম ছোটন।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566730280721.jpg

সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল আলম ছোটন বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সুকুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ৬ শতাংশ এবং তার ভায়রা সামসুল হুদা ১৩ শতাংশসহ মোট ১৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন সিরাজুল ইসলাম ছোটন। পরবর্তীতে সামসুল হুদা তার অংশের জমি বিউটি ভৌমিক নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করেন। গত ৭ জুলাই বিউটি ভৌমিক ও তার স্বামী অচিন্ত কুমার চক্রবর্তী দেড় শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এনে সিরাজুল ইসলাম ছোটনের দেয়া বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। তারা নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরীর সহযোগিতায় এ কাজ করেন।

পরে এ ঘটনায় নাটোর সহকারী জজ আদালতে বিউটি ভৌমিকসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন সিরাজুল ইসলাম ছোটন। এরপর হঠাৎ করেই ২৪ আগস্ট মেয়রের নেতৃত্বে সিরাজুল ইসলাম ছোটনের বাড়ির পানি, বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে ওই জমি মাপ দিয়ে দেখা যায় সিরাজুল ইসলাম ছোটন দেড় শতাংশ জমি অতিরিক্ত দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে দুইবার নোটিশ দিয়ে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি না করলে গতকাল বাদী পক্ষের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এ কাজের মাধ্যমে তিনি কোনো আদালত অবমাননা করেননি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র