Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

ত্রাণের চাইতে গাইবান্ধার মানুষের নজর বেশি বাঁধের দিকে

ত্রাণের চাইতে গাইবান্ধার মানুষের নজর বেশি বাঁধের দিকে
বন্যাদুর্গত ফুলছড়িতে হেলিকপ্টারের ওঠা-নাম দেখতে ভিড় জমিয়েছে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) থেকেঃ ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট, বাঙালি নদীর জেলা গাইবান্ধা। দিনভর এই জেলার বিভিন্ন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে মনে হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ যতটা না ত্রাণ চায়, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশা দ্রুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতের।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরেও ঢুকে গেছে বন্যার পানি। জেলা জজের বাসা থেকে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার চারপাশ জলমগ্ন। স্থানীয়রা বলছেন, বন্যা যে আসবে, সেটি তারা জানতেন। কিন্তু এভাবে বানের জল যে শহর প্লাবিত করবে, তা তাদের ভাবনাতেও আসেনি।

শহরতলীর বাসিন্দা আশরাফ হোসেন ক্ষোভের সাথে জানান, বাঁধগুলো যে নাজুক, এটা মাথায় রাখেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা। জেলা শহর থেকে ফুলছড়ি, সর্বত্রই থৈ থৈ পানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563542210921.gif
বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

নদীর পাড়ের মানুষদের কাছে বন্যা প্রতি বছরের নিয়তি। নিজেরাই সময়মতো আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন। মজুদ রেখেছিলেন আপদকালীন খাদ্যশস্য। বলছিলেন উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাটিয়া বাড়ি গ্রামের মরিচা বেগম সহ বেশকিছু আশ্রিত বানভাসী।

ত্রাণের জন্য তেমন হাহাকারও নেই এখানকার দুর্গত মানুষদের। বিষয়টি এমন, সরকারি অথবা মানবিক ত্রাণ সহায়তা পেলে ভালো, না পেলেও আফসোস নেই। দিন চলে যাবে।

গাইবান্ধার এই বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো: শাহ্ কামাল, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সহ প্রশাসনের ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তারা।

ত্রাণ নিয়ে বাড়তি হৈচৈ বা ত্রাণের জন্য হামলে পড়া- এমন দৃৃশ্য কল্পনাও করে না এ অঞ্চলের মানুষ। কেন? দুর্যোগ সহনশীলতা। দুর্যোগে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। যে কারণে ত্রাণ নিয়ে বাড়তি হাহাকার নেই এখানে- বলছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563542312611.gif

ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সত্যতা মিলল, জেলা শহরের মাঠে। যেখানে হেলিকপ্টার নেমেছে, সেই আকাশযান দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাড়ির ছাদে, মাঠে বসে বা দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলেন হেলিকপ্টারের অবতরণ আর উড্ডয়ন।

সমাবেত এই মানুষদের সংখ্যা নি:সন্দেহে কয়েক গুণ বেশি ছিল ত্রাণ প্রত্যাশী বানভাসী মানুষদের তুলনায়। যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলের মানুষদের সক্ষমতা। তবে ত্রাণের চাইতে হেলিকপ্টার দর্শনেই কি আগ্রহ বেশি এই জনপদের বানভাসী মানুষদের? বলতে পারেন তেমনই। গত তিনদিন ধরে এখানে কাজ করছি। এ অঞ্চলের মানুষরা আসলে ত্রাণ চায় না, চায় বাঁধ মেরামত এবং সেটা হওয়া চাই টেকসই- বলছিলেন ঢাকার একজন গণমাধ্যম কর্মী।

আপনার মতামত লিখুন :

রুমায় অস্ত্রের মুখে জিপ গাড়ির ৩ চালককে অপহরণ

রুমায় অস্ত্রের মুখে জিপ গাড়ির ৩ চালককে অপহরণ
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের রুমায় অস্ত্রের মুখে জিপ গাড়ির তিনজন চালককে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

অপহৃতরা হলেন-বাসু কর্মকার (৩২), নয়ন জলদাস (২৯) এবং মো: মিজান (৩০)। এদের প্রথম দুজনের বাড়ি রুমা উপজেলার লেমুঝিরি ও বড়ুয়া পাড়ায় এবং তৃতীয় জনের বাড়ি চট্টগ্রামের আমিরাবাদ এলাকায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিনজিরি পাড়া মুখ থেকে অস্ত্রের মুখে জিপ গাড়ির তিনজন চালককে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে অপহৃতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অভিযানে নেমেছে।

রুমা জিপ পরিবহনের লাইন ম্যান মোহাম্মদ মিজানুর বলেন, ‘সোমবার রুমায় সাপ্তাহিক হাট ছিলো। বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে তিনটি জিপ-গাড়ি বেতেলপাড়া, মুন্নুমপাড়া, লাইনঝিড়ি পাড়া সড়কে যায়। যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে মিনজিরি পাড়ামুখ থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তিনটি গাড়ির তিনজন চালককে অপহরণ করে নিয়ে যায়।’

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম জানান, মিনজিরি পাড়া মুখ থেকে তিনটি জিপ গাড়ির তিনজন চালককে (ড্রাইভার) অপহরণের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কারা অপহরণ করেছে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।‘

চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন মোমেনা

চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন মোমেনা
মোমেনা বেওয়া

দুর্দশাগ্রস্ত আর ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নদিরকুটি গ্রামের মোমেনা বেওয়া (৬৫)। বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পেলেও এ পর্যন্ত কিছুই জোটেনি মোমেনার ভাগ্যে।

নিত্য অভাব আর অসুস্থতাকে সাথে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে তার দিন কাটে। রাতেও ঘুমাতে পারেন না। বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘর, আর পলিথিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে নির্ঘুম রাত কাটে। দুই সন্তানের জননী মোমেনার স্বামী গত হয়েছেন ২৫ বছর আগে। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো টাকায় অনেক কষ্টে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার আলাদা জীবন-যাপন। এখন মোমেনাকে দেখার কেউ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566229998321.jpg

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে মোমেনার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলের ঘরটি তালাবদ্ধ। ভাঙা ঝুঁপরি ঘরের এক কোণে মাটিতে পাতা একটা ময়লা বিছানা। অন্যদিকে রান্নার চুলা। মোমেনা জানান, রাতে ঘরে শুয়ে চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃষ্টি আসলে বিছানার এক কোণে বসে রাত পাড় করেন। পরের দিন কাজ কাম ফেলে বিছানা কাপড় শুকাতে দেন।

মোমেনা বেওয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাহে মোর কাইয়ো নাই, কিছুই নাই। বুড়া বয়সে মানুষের বাড়িতে কামাই করি খাং বাহে। আর কদ্দিন বাঁচিম জানাং না। দুইমুঠো খাবার পায়া শুতি থাইকপার পাইলে এ্যাকনা শান্তি পানু হয়’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566230015893.jpg

তার প্রতিবেশি নুরজাহান বেগম জানান, মোমেনা বেওয়া বড়ই অভাগী। স্বামী মরার পরে ছেলেও দেখাশুনা করে না। অনেক কষ্টে দিন কাটে তার। বিধবা ভাতা ও একটা  ঘর পাওয়ার যোগ্য হলেও তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, নতুন ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাকে ঘর দেওয়া হবে। সেই সাথে তিনি বিধবা ভাতার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র