বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে উপকূলে জেলেদের প্রস্তুতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা টোয়েন্টিফোর.কম,বাগেরহাট
বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে যেতে উপকূলে জেলেদের প্রস্তুতি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে যেতে উপকূলে জেলেদের প্রস্তুতি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রজনন মৌসুমের ৬৫ দিন সকল প্রজাতির মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণার সময়সীমা মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) শেষ হচ্ছে। তাই বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার-হাজার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার চুড়ান্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছেন। মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত মাছ আহরণ নিষিদ্ধের সময় পার হয়ে যাওয়ায় এখন বরং জেলে-মহাজনরা বেশি পরিমাণ মাছ আহরিত করতে পারবেন বলে আশা করছে জেলা মৎস্য অধিদফতর। 

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলসীমায় ইলিশ, বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি ও সাদা এবং সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। এর প্রজনন রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।  এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার।  তাই মঙ্গলবারের পর যে কোন সময় জেলেরা সাগরে যেতে পারবে মাছ ধরতে। 

বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার ও আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ মো: আবেদ আলী বলেন, সাগরে মাছ আহরণে এবারই প্রথম ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করায় জেলে-মহাজনরা গভীর সংকটের মধ্যে পড়েন। মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাগেরহাটসহ উপকূলের হাজার হাজার জেলে তাদের জাল ও ফিশিং ট্রলার মেরামত করে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে যেতে চুড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করেছেন।

মো: আবেদ আলী বলেন, সাগরে মৎস্য আহরণ মৌসুমের অর্ধেকটা সময় ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওযায় এখন জেলেদের জালে কাঙি্ক্ষত মাছ ধরা না পড়লে জেলে-মহাজনদের আবারও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হবে। এ ছাড়া আমাদের বিকল্প কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। মানুষতো আশা নিয়েই বেঁচ থাকে। জালে অনেক মাছ ধরা পড়বে এমন আশায় ফিশিং ট্রলার নিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বাগেরহাটসহ উপকূলের জেলাগুলোর জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে যেতে শুরু করবে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেক কনক বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে মাছের আহরণ ক্ষেত্র চিহ্নিহিতকরণ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মজুদ নির্নয়ে ‘আরভি মীন সন্ধানী’ নামে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন নিজস্ব জাহাজ কিনে সাগরে মাছের জরিপ ও গবেষণা শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৪র্থ স্থানে উঠে এসেছে। প্রতি বছর দেশে প্রায় ২ লাখ মেট্ট্রক টন হারে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রায় ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্টিক টন মাছ উৎপাদন করেছে। এরমধ্যে সামুদ্রিক উৎস্য থেকে এসেছে প্রায় ১৬ ভাগ। সামুদ্রিক উৎস থেকে মাছের উৎপাদন আরো বাড়াতে সরকার বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রজনন মৌসুমে এ বছর ৬৫ দিন সবধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মাছ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ের পর সাগরে এখন জেলেদের জালে অধিক পরিমাণ মাছ আহরিত হবে বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :