ফরিদপুরে ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ফরিদপুর
হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতির একটি চিত্র, ছবি: ফাইল ফটো

হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতির একটি চিত্র, ছবি: ফাইল ফটো

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে নিহতের সংখ্যা তিনজন আর জেলায় নিহতের সংখ্যা সাতজনে উন্নীত হলো। বাকি ৪ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নিহত ওই নারীর নাম লিপি আক্তার (৩০)। সে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ডোমরাকান্দি গ্রামের মাহাবুব খলিফার স্ত্রী। তিনি একজন গৃহিনী। তার ৭ বছরের একটি ও ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন লিপি আক্তার। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার মারা যান তিনি।

লিপির ছোট দেবরের স্ত্রী (জা) নাছিমা আক্তার জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিপি আক্তারকে ভর্তি করা হয়। পরে তার রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে মারা যান তিনি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুইদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন লিপি আক্তার। পরে তার রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায় সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। চিকিৎসাধীন অবস্থার শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬০ রোগী ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক জানান, গত ২০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন ১৮৬ জন। ৪১ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। মারা গেছেন ২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৬ জন।

এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২০৯ জন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২১জন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪জন, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ২৮ জন, আরোগ্য সদন হাসপাতালে ১৫ জন, সমরিতা হাসপাতালে ২জন ভর্তি আছেন।

এর আগে গত পহেলা আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারমীন (২২) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার মো.রুবেলের মেয়ে।

এরপর ৭ আগস্ট বুধবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে মারা যান আব্দুল জলিল সরদার (৫০) নামের এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় একজন কৃষক। নগরকান্দা উপজেলার মুকুল সরদারের ছেলে তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :