ঈদকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার

মুহিববুল্লাহ মুহিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, কক্সবাজার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ছুটিতে লাখো পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) থেকে শনিবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত তিন লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে বৃষ্টির কারণে সৈকতে তেমন পর্যটকের সমাগম না ঘটলেও দুপুর থেকে আবারো বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আনা-গোনা বেড়েছে। সৈকতের ১১টি পয়েন্টসহ হিমছড়ি, ইনানী, রামু, মহেশখালী ও আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করছে আগত পর্যটকরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়। তবে ঈদের পরদিন আজ থেকে পুরোদমে পর্যটক আসা শুরু হয় কক্সবাজারে। এ কয়দিনে এখানকার প্রায় ৪শ হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, এ পাঁচ দিনে অন্তত তিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/13/1565689147282.jpg

হোটেল দি কক্সটুডের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আবু তালেব বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, ইতোমধ্যে হোটেলগুলোতে ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের কারণে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় সাড়া একটু কম। পর্যটকদের ভ্রমণ আনন্দদায়ক করতে হোটেলগুলোতে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সমুদ্রের প্রতি আমার টান দীর্ঘদিনের। তাই ছুটি পেলেই এখানে ছুটে আসি। এবার ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। ভালো সময় কাটবে বলে আশা করছি।’

সিলেট থেকে আসা সামিয়া ও রফিকুল দম্পতি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সারা বছরই ব্যস্ততার মধ্যে সময় চলে যায়। তাই শুধু ছুটি পেলেই একটু ঘোরাঘুরি করার সুযোগ হয়। আর কক্সবাজার তো অসাধারণ একটি জায়গা। এখানে এলেই মনটা কেন জানি ভালো হয়ে যায়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজি রাসেল আহমেদ নোবেল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এখানকার চার শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসে সোয়া লক্ষাধিক মানুষের রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। থাকা-খাওয়ার সুবিধার কারণে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় পর্যটকরা ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারে ছুটে আসেন। তাই কক্সবাজারে দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ঈদের ছুটিতে যেসব পর্যটকরা কক্সবাজার বেড়াতে আসবেন, তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে শুধু কক্সবাজার সৈকত নয়, সৈকতের আশপাশে যেসব পর্যটন কেন্দ্র আছে যেমন হিমছড়ি, ইনানী, মেরিন ড্রাইভরোডসহ অন্য স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি তাদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :