Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

এবারো ঈদের আনন্দ পৌঁছায়নি মানতা পরিবারগুলোর মাঝে

এবারো ঈদের আনন্দ পৌঁছায়নি মানতা পরিবারগুলোর মাঝে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
আব্দুস সালাম আরিফ
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
পটুয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতি বছরের মতো এবারো পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমন্তাজ ইউনিয়নে নৌকায় বসবাস করা ১৭০ মানতা পরিবারের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছায়নি।

সাগর ও নদী বেষ্টিত চরমন্তাজ ইউনিয়নটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। এখানে গত ৩০ বছরের অধিক সময় যাবৎ সুলিজ বাজারের খালে নৌকায় এসব মানতা পরিবার বসবাস করে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এসব পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে জোটেনি কোরবানির পশুর মাংস। তাই ঈদ কিংবা কোরবানি কোনো কিছুতেই তাদের অনুভূতি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/13/1565706106544.jpg

চরমন্তাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব খান জানান, সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষদের ঈদ আনন্দ এই চরে আসতে আসতে অনেকটাই বিবর্ণ হয়ে যায়। শহরের গরিব মানুষগুলোর ভাগ্যে কোরবানির পশুর মাংস জুটলেও মানতাদের তা জোটে না। মানতা সম্প্রদায়ের আশপাশে যেসব মানুষ বসবাস করে তারাও অনেকটা দরিদ্র। কেউ কেউ কোরবানি দিলেও তা ডাঙ্গায় বসবাস করা মানুষদের মঝে বিতরণ করেই শেষ হয়ে যায়।

মানতা সম্প্রদায়ের নারী সদস্য তাছলিমা বলেন, ‘আইজ পর্যন্ত কোনো কোরবানিতে এক টুকরা গোস্ত ভাগ্যে জোডে নাই। পোলাপান লইয়া হারা বছর যেমন থাহি, ঈদ কোরবানিতেও হেইরহম থাহি। মোগো লইগ্যা ঈদ আর কোরবানি নাই।’

মুসলিম ধর্মের অনুসারী এসব মানতা সম্প্রদায়ের পরিবারের মাঝেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সহযোগিতার কথা বলছেন এ চরে বসবাস করা মানুষরা।

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় বৈদ্যুতিক তারের জটলা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

গাইবান্ধায় বৈদ্যুতিক তারের জটলা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
বৈদ্যুতিক তারের জটলা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধার কুটিপাড়া-গোদারহাট বাঁধের মাথা নামক এলাকায় গাছে গাছে এলোমেলোভাবে ঝুলছে বৈদ্যুতিক তার। এমনকি অতিরিক্ত তারের ভারে হেলে পড়েছে বিডিবি’র বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো। ফলে এসব তারের জটলায় প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

দেখা যায়, গাইবান্ধা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কুঠিপাড়ার গোদারহাট সংলগ্ন বাঁধের মাথায় (ঘাঘট লেকের পার্শ্বে) খোলা তারের ভারে ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয়েছে বিডিবি’র বিদ্যুতের একটি খুঁটি। একেবারেই নিচ দিয়ে এবং গাছের সাথে এলোমেলোভাবে যে যার মতো ইচ্ছে মাফিক বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা গেছে বাঁশের নিচু খুঁটি বা সিমেন্টের পিলার দিয়ে মিটারের সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোপূর্বে ওইসব বিপদজনক তারে জড়িয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সাথে টিভির ডিশলাইন সংযোগ তারসহ বিভিন্ন ধরণের তারের জঞ্জাল লেগেই রয়েছে। মাঝে মাঝে এসব তারগুলোর ঘর্ষণে বিদ্যুতের আলো উধাও হয়ে যায়। চলে ঘন ঘন লোডশেডিং।

স্থানীয় আজগর আলী নামের এক ব্যক্তি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বিডিবি’র এসব জটলা লাগানো ঝুলন্ত তারগুলোর নিচ দিয়ে হাজারো মানুষের ব্যস্ততম চলাচলে যে কোনো সময় বিদ্যুতের খোলা তার ছিঁড়ে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় কাউন্সিলর ইউনুস আলী শাহীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এ বিষয়ে গাইবান্ধা পিডিবি অফিসের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গাইবান্ধার অফিসের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উদ্বোধনের ১বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসা কার্যক্রম

উদ্বোধনের ১বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসা কার্যক্রম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গত বছরের ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম। ওই ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন ভবন উদ্বোধনের প্রায় এক বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ভবনটিতে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566049590969.jpg

 

সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এখনও ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এটাকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বলা হলেও এখনও অনুমতি মেলেনি। আর ১০০ শয্যার অনুমতি না মিললে ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটিরও অনুমতি পাওয়া যাবে না।

এদিকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- অনুমতিই না নিয়ে তড়িঘড়ি করে কেন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলো?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566049376617.jpg

 

শনিবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে হাসপাতালের সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে সেই সময় থেকেই হাসপাতালে রয়েছে লোকবল সংকট, ডাক্তার-নার্সসহ নানান সমস্যা। বর্হিবিভাগে প্রতিদিন এক হাজার ৩০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকছেন ৫০০ রোগী। ফলে এই অল্প জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই স্থানীয় সংসদ সদস্যর প্রচেষ্টায় ১০০ শয্যা সদর হাসপাতালটির ২৫০ শয্যায় রূপ দিতে হাসপাতালের একপাশে ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566049683341.jpg

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর দাবি, নতুন ভবন চালু হলে রোগীদের সেবার মান বাড়বে। নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রাখা হয়েছে আধুনিক সব সুবিধা। ভবনটিতে রয়েছে- ৮টি ওয়ার্ড, ৬টি আইসিইউ, ৬টি অপারেশন থিয়েটার,  ৩টি ওপিডি, ডে হসপিটাল ১৮টি, ১২৫০ কেজি ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি লিফট, ৫০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, কনসালটেন্ট রুম ১৮টি, ১০৩৫ বর্গফুটের একটি মাল্টিপারপাস কক্ষ, ২৫০ কেভিএ ১টি জেনারেটর, ৫০০ কেভিএ বিদ্যুতের সাবস্টেশন, ১টি ডিপ টিউবওয়েল, মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা।

হাছেমা বেগম নামের এক রোগী জানান, সকাল ৯টায় নাতিকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এসে দুপুর ১২টায় ডাক্তার দেখাতে পারেন নি। হাসপাতালে রোগীদের এত ভিড় যে ডাক্তাররাও ভালো করে রোগী দেখছেন না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566049826641.jpg

 

কলেজছাত্র রাব্বী জানান, হাসপাতালে তার মাকে নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৩ দিন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি থাকায় প্রথম আট দিন রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সার্জারি বিভাগের রোগী বৃদ্ধা স্বর্ণলতা রাণী জানান, রোগীর চাপে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে খুবই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, নতুন ভবন উদ্বোধনের পর এক বছর পার হতে চললেও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ, এটা তাদের ব্যর্থতা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566049468832.jpg
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম কবীর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে নানা সংকট রয়েছে। যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে বর্তমানে হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় একটু সমস্যায় পড়তে হয় ডাক্তারদের। তবে সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় রূপ দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা সিভিল সার্জন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু হলে রোগীদের দুর্ভোগ করবে।’

২৫০ শয্যার নতুন ভবনের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডাক্তার এ এস এম মারুফ হাসান এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র