Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

সিন্ডিকেটের কারণেই চামড়ার দাম নেই: ফখরুল

সিন্ডিকেটের কারণেই চামড়ার দাম নেই: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঠাকুরগাঁও


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়নি। এই সরকার দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ক্ষতি করছে।’

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

একটি সিন্ডিকেটের কারণেই কোরবানির চামড়ার কোনো দাম নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহার মূল ইবাদত হচ্ছে কোরবানি। এই কোরবানিতে প্রচুর পরিমাণে পশু জবাই করা হয়। এ থেকে প্রাপ্ত চামড়া লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে বড় একটা ভূমিকা রাখে। তবে পূর্ব পরিকল্পিত কোনো নীতি না থাকার ফলে একটি সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া ক্রয় করা এবং যারা পশু পালন করেছেন, একই সঙ্গে চামড়া ব্যবসায়ীরাও প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার কারণে বহু জায়গায় চামড়া মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘একটা সময় ছিল চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে লোন দেয়া হতো। যারা চামড়া ব্যবসায়ী তাদেরকে একটা লোন দেয়া হতো। আজ এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চামড়া ব্যবসায় একটা ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’

নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার অর্থনীতির ক্ষতি করেছে, দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে। সেই সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে। যার কারণেই আমরা বারবার বলছি এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। সেই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া উচিত।’

বর্তমানে ব্যাংকিং অবস্থা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজ ব্যাংকে মানুষ টাকা তুলতে গেলে সঠিকভাবে টাকা পায় না। এই ব্যাংকগুলো চলছে একটা অনিয়মের মধ্য দিয়ে।’

এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

উখিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

উখিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৫ আগস্ট) ভোরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটোয়ার টেক এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনছুর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তার নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

আস্থাহীনতায় প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের অনীহা

আস্থাহীনতায় প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের অনীহা
কয়েকজন রোহিঙ্গা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দুই দফা চেষ্টার পরও রোহিঙ্গারা তাদের ওপর আস্থা রাখতে রাজি নয়। তাই বার বার রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্ত না মানলে তারা স্বদেশে ফিরবেন না বলে জানান নেতারা।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে, সম্প্রতি ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায় মিয়ানমার। এ তালিকা ধরে দ্বিতীয়বারের মত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার চালু করতে সব প্রস্তিুত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ২২ আগস্ট ছিল সেই দিন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে তা হয়ে ওঠেনি।

মিয়ানমারের পাঠানো তালিকার রোহিঙ্গা রয়েছেন টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের ২৬ নম্বর ক্যাম্পে। এখনো রোহিঙ্গাদের মতামত নিচ্ছেন ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা। এসব প্রতিনিধিকে ‘শর্ত না মানলে যাবেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গত বৈঠকে আমাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করার কথা দেন মিয়ানমার প্রতিনিধিরা। কিন্তু তারা সে কথা না রেখে হঠাৎ প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেন। এটি তাদের নতুন চক্রান্ত। তাই আমরা মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক অধিকার, আমরা নিরাপত্তাসহ যেসব শর্ত দিয়েছি, সেগুলো না মানলে কখনো মিয়ানমারে ফিরব না। মিয়ানমার আমাদের চিহ্নিত করেছে, ঠিক আছে। কিন্তু শর্তগুলো না মানলে ফেরা অসম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছি।

শালবন ক্যাম্পের ডি-২’র বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা সেই পুরনো দাবিগুলো তুলে ধরেছি। নাগরিত্ব ও মিয়ানমারের যে ১৩০ জাতি রয়েছে, তাদের মধ্যেও আমরা নেই। আমাদের দাবিগুলো পুরণ হলে ফিরব।

আরেক রোহিঙ্গা মো. সলিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দাবি না মানলে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। কারণ নিরাপত্তা ও নাগরিত্ব ছাড়া সেখানে গেলে আবার সহিংস হতে পারে মিয়ানমার। তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দিয়েছে। এটা তাদের একটা চক্রান্ত।

s
কয়েকজন রোহিঙ্গা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, রোহিঙ্গারা যদি স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হয়, তাহলে আমরা চূড়ান্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করব। তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুই করব না আমরা। তাই তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে তা আর হয়ে ওঠেনি। পরে গত ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি শেষ করে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এবারও রোহিঙ্গাদের শর্তের মুখে আটকে যায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র