সাত দিন ছুটির পর সচল বেনাপোল বন্দর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বেনাপোল(যশোর)
সাত দিন ছুটির পর বেনাপোল বন্দরে রফতানি-আমদানি শুরু

সাত দিন ছুটির পর বেনাপোল বন্দরে রফতানি-আমদানি শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিতে দেশের সর্ববৃহত্তম এই বেনাপোল বন্দরের সাথে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম টানা ৭ দিন বন্ধের পর পুনরায় আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। লম্বা ছুটি পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারী যারা কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ইতিমধ্যে তারা ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে বন্দরে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুর একটা থেকে এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এর আগে গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা বন্ধের কবলে পড়ে বন্দরটি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস বার্তাটোয়েন্টিফোরকে জানান, আমদানি-রফতানি পণ্য চালান যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ছাড় করাতে পারেন তার জন্য সংশিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী।

সকালে বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য নিয়ে ট্রাক ঢুকছে বেনাপোল বন্দরে, তেমনি বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানি পণ্য নিয়ে ট্রাক যাচ্ছে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে। বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পণ্য খালাস করাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, দুপুর একটা থেকে ২ টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টায় ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৩৫ ট্রাক পণ্য। এসব আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, মেশিনারিজ ও খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য। ভারতে রফতানি হয়েছে ২৭ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য পাট ও পাটজাত জাতীয় পণ্য।

জানা যায়, স্থলপথে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি, রফতানি বাণিজ্যের সরকার অনুমোদিত যে ২৩ টি বন্দর রয়েছে তার মধ্যে চলমান ১৪ টি বন্দরের অন্যতম হচ্ছে এই বেনাপোল বন্দর। ১৯৭২ সাল থেকে এ পথে ভারতের সাথে বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক যাত্রা। দেশে স্থলপথে যে বাণিজ্য হয় তার ৬০ শতাংশ হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ  হওয়াতে প্রথম থেকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যা থেকে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়।

আমদানি-রফতানি পণ্য ছাড়করণের কাজে কাস্টমস,বন্দর,সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্টসহ সরকারি,বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এ বন্দরটি। এছাড়া এখানে আমদানি-রফতানি পণ্যের নিরাপত্তায় আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় তিন শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। সব কিছু মিলে এ বন্দরটি বাণিজ্যিক দিক থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন :