শালবাগান শিবিরে দ্বিতীয় দিনে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার

নূরুল হক, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, টেকনাফ
ত্রিপাল দিয়ে ঘেরা কক্ষে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ত্রিপাল দিয়ে ঘেরা কক্ষে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ে ত্রিপাল দিয়ে ঘেরা কক্ষে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়। প্রথম দিনের ন্যায় ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎকার দিতে রোহিঙ্গাদের ঘরে ঘরে গিয়ে উৎসাহিত করছেন।

আরও পড়ুন: প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরুৎসাহী করছেন রোহিঙ্গা নেতারা

শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ সিআইসি মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, ‘শালবন শিবিরে প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। আজকে (বুধবার) রোহিঙ্গাদের আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচেছ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়া রোহিঙ্গারা সাক্ষাৎকার দিতে আসছেন। বিকেল নাগাদ কতজন রোহিঙ্গা পরিবার সাক্ষাৎকার দিতে এসেছে তা বলা যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566376207667.jpg

এদিকে সাক্ষাৎকারকে ঘিরে টেকনাফের নয়াপাড়া শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রত্যাবাসন ঘিরে রোহিঙ্গা শিবিরে রাখাইন ভাষায় লিফলেট বিতরণ

সাক্ষাৎকার দিতে আসা রোহিঙ্গা নারী ডি-৩ ব্লকের আনোয়ারা বিবি ও জাহেদা বেগম বলেন, বুধবার সকালে ইউএনএইচসিআর ও ক্যাম্প ইনচার্জের প্রতিনিধিরা ঘরে গিয়ে সিআইসি কার্যালয়ে আসতে বলেছে। এই তালিকায় নাকি আমাদের পরিবারের নাম রয়েছে, নাম যেহেতু রয়েছে, তাই যাব কি যাব না তা সাক্ষাৎকারে গিয়ে বলে যেতে হবে। তাই এসেছি। কিন্তু আমরা কিভাবে মিয়ানমারে ফেরত যাব? যে দেশ থেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি, সেখানে ফিরে যেতে চাই না। মিয়ানমারে নির্যাতনের বিচার, নাগরিক অধিকার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা ফেলে স্ব ইচছায় ফিরে যেতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566376337116.JPG

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের বেশ কিছু নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে। জ্বালিয়ে দেয় বাড়িঘর, গ্রামের পর গ্রাম। যার ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। তবে পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: স্থল পথে হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর পর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম দফা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করে বিপল হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :