স্যালাইনের সঙ্গে ৫ ইনজেকশন, নবজাতকের মৃত্যু!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লক্ষ্মীপুর
ধাত্রী আলেয়া বেগম

ধাত্রী আলেয়া বেগম

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে এক প্রসূতিকে স্যালাইনের সঙ্গে ৫টি ইনজেকশন দিয়ে প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অবস্থায় ওই প্রসূতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে প্রসূতি নুরনাহার প্রিয়ার স্বামী সহিদুল ইসলাম রনি বাদী হয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোহে ধাত্রী আলেয়া বেগম ও অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি।

অভিযুক্ত আলেয়া বেগম সদর উপজেলার দালাল বাজার তালতলা এলাকার (খোয়াসাগর দিঘীর পাড়) শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার ওই ধাত্রীর বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/29/1567096430886.jpg

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট দুপুরে সদর উপজেলার সমসেরাবাদ এলাকার সহিদুল ইসলাম রনির স্ত্রী প্রিয়ার প্রসব বেদনা ওঠে। এ সময় তাকে লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে যেতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বাড়িতে ফেরার সময় প্রসূতির মা মিনারা বেগম তাকে দালাল বাজার মা ও শিশু কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখেন চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন। এ সুযোগে ধাত্রী আলেয়া বেগম প্রসূতির মাকে বুঝিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রসব করানোর কথা জানান। প্রসব বেদনায় মেয়ের কষ্ট দেখে মা মিনারা বেগমও রাজি হয়ে যান।

একপর্যায়ে আলেয়া বেগম তার দালালবাজার খোয়াসাগর দিঘীর পাড়ের বাড়িতে নিয়ে যান প্রসূতি ও তার মাকে। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধাত্রী একটি ইনজেকশন দিয়ে প্রসূতিকে অচেতন করেন। পরে প্রসূতির শরীরে স্যালাইন গেঁথে সেখানেও ৪টি ইনজেকশন দেন তিনি। এতে পেটের ভেতরেই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

পরে জোরপূর্বক প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের শরীরের কিছু অংশ প্রসূতির পেটে থেকে যায়। এতে প্রসূতির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। সেখান থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ধাত্রী আলেয়ার বিরুদ্ধে সদর উপজেলার মধ্য বাঞ্ছানগর গ্রামের আরিফ হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও একই গ্রামের রুনু আক্তারসহ একাধিক নারীর গর্ভপাতের সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে প্রসূতির স্বামী সহিদুল ইসলাম রনি বলেন, আমার স্ত্রী ও বাচ্চার কোন সমস্যা ছিল না। তাদের ডাক্তারি রিপোর্টগুলোতেও কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। আলেয়ার ভয়ংকর কৃতকর্মে আমার বাচ্চা মারা গেছে। এখন আমার স্ত্রীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি আলেয়ার শাস্তি চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া বেগম বলেন, রোগীকে বাঁচাতে ডাক্তাররাও ইনজেকশন পুশ করেন। এখানে দোষের কিছু ছিল না। প্রসূতি ও বাচ্চার অবস্থাও ভালো ছিল না। আমি বলেছি প্রসূতিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। কিন্তু তারা আমাকে দিয়েই ডেলিভারি করতে বাধ্য করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, পুলিশকে পাঠিয়ে ওই ধাত্রীকে থানায় আসতে বললেও আসেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগকারীকে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পরিবার পলিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, ধাত্রী কোনভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রসূতিকে ইনজেকশন কিংবা স্যালাইন দিতে পারবে না। অবস্থার অবনতি দেখলে রোগীকে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :