রংপুরে এক স্কুলছাত্রকে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রংপুর
রংপুর জেলার মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত

রংপুর জেলার মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া আব্দুর রশিদ মিয়া নামের এক ছাত্রকে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেছে নিহতের পরিবার।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর মহানগরীর সাতগাড়া টেক্সটাইল মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্কুল ছাত্র আব্দুর রশিদকে আটক করে লাঠিপেটা ও কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসী মোজাফফর ও তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে গুরুতর আহত অবস্থায় রশিদকে একটি চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আব্দুর রশিদ মিয়া। রাতেই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে রশিদের বড় ভাই মোহন মিয়ার কাছে ৫০০ টাকা জোরপূর্বক চেয়েছিল বখাটে মোজাফফর। টাকা না পেয়ে মোহনকে মারধর করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে মোজাফফরের বাবার কাছে অভিযোগ দেন মোহন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোহন মিয়ার ছোট ভাই শিশু আব্দুর রশিদকে একা পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মোজাফফরসহ তার লোকজনেরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে নিহতের ফুফু নাজমা বেগম জানান, ‘আমি জরুরি কাজে রাতে টেক্সটাইল মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি আমার ভাতিজা রশিদকে মোজাফফর, মন্টি, জয়, বেলালসহ বেশ কয়েকজন লাঠিপেটা ও ধারালো ছোরা দিয়ে কোপাচ্ছে। আমি দৌড়ে গিয়ে রশিদকে রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু মোজাফফররা আমাকে ফেলে দিয়ে রশিদকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় ওই মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া একটি চলন্ত বাসের নিচে রশিদকে ফেলে দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।'

অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই মোহন মিয়া অভিযোগ করেন, ‘মোজাফফর এলাকার সন্ত্রাসী। সে যার তার কাছে প্রায়ই নেশা করার জন্য টাকা দাবি করত। না দিলে জোর করে টাকা কেড়ে নিত। কয়েকদিন আগেও ৫০০ টাকা চেয়েছিল, তা না দেয়ায় আমাকে মারধর করে। তার বাবার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করায় আমার ছোট ভাইকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :