নদী আর নির্মল প্রকৃতিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

হাসান মাহমুদ শাকিল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নদী আর নির্মল প্রকৃতিতে সেজেছে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। আর এতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। নদী থেকে ভেসে আসা দক্ষিণা বাতাসে মন জুড়াতে সুযোগ পেলেই এখানে ছুটে আসে হাজারো মানুষ। দর্শনার্থীদের পদচারণা আর হৈ-হুল্লোড়ে বেড়িবাঁধটি হয়ে উঠে আরও অপরূপ।

বাঁধটিতে দাঁড়িয়ে মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছোট-ছোট নৌকায় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য দেখা যায়। জোয়ার-ভাটার টানে বেড়িবাঁধের গায়ে আঁচড়ে পড়া ঢেউও দৃষ্টি কাড়ে। এখানে নদীর ঢেউ, পানির শব্দ, জেগে ওঠা চর ও নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীতে পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজ ও মাছ শিকারে অসংখ্য নৌকার ছুটোছুটি নজর কাড়ে। নদীর তীরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সাজানো বাগান। সেই বাগানও মানুষকে আকৃষ্ট করে। এছাড়া চরে দৃষ্টি কাড়ে গরু-মহিষ, ভেড়া আর রাখালের বন্ধুত্ব। রয়েছে সয়াবিন ও ধানসহ ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ। সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে স্নিগ্ধতায় মন ছুঁয়ে যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বেড়িবাঁধটি পর্যটকদের কাছে দৃষ্টিনন্দন করতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেড়িবাঁধটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে সেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র আজগর হোসেন বলেন, ‘এ উপকূলটি একসময় ভাঙন কবলিত ছিল। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর থেকে এটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই সুযোগ পেলে এখানে চলে আসি। এখানে আসলে খুব কাছ থেকে জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য দেখতে পাই। আর নদীর বুক থেকে ভেসে আসা দক্ষিণা বাতাস উপলব্ধি করার মতো।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধটি স্থানীয়দের কাছে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। পর্যটকদের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যটক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :