কৃষকদের বিনোদন দিতেই পাতার বাঁশি বাজান ওহিদুল

সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজবাড়ী
পাতার বাজিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করছেন ওহিদুল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পাতার বাজিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করছেন ওহিদুল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া এক সাধারণ মানুষ ওহিদুল মন্ডল (৪৫)। নিজের কোনো জমিজমা না নেই। অন্যের জমি চাষ করে সংসার চালান। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হলেও তার মনে রয়েছে অন্যকে আনন্দ দেওয়ার বাসনা। সারাদিন হাড়-খাটুনি পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় তিনি বসে যান কৃষকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন গাছের পাতা দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের মন জয় করেছেন ওহিদুল।

ওহিদুল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মৃত ইশারত মন্ডলের ছেলে। যিনি ৩০ বছর ধরে পাতার বাঁশি বাজিয়ে আসছেন। গ্রামের কৃষকদের একটু বিনোদন দেওয়ার জন্য তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই কোনো না কোনো জায়গায় বসে মজমা বসান। এর জন্য তিনি কোনো টাকাও নেন না। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, লালনসহ বিভিন্ন ধরনের গানের সুর তোলেন তিনি।

কৃষকদের বিনোদন দিতেই পাতার বাঁশি বাজান ওহিদুল

ইলিশকোল গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কামরুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি, ওহিদুল খুব কষ্টের মাঝে জীবন-যাপন করে। কিন্তু তারপরও তার আনন্দের কোনো কমটি নেই। সন্ধ্যা হলেই সে কোনো একটি জায়গায় বসে পাতা দিয়ে বাঁশি বাজান। পাতা দিয়ে বাঁশি বাজানো এক বিরল প্রতিভা।'

কৃষকদের বিনোদন দিতেই পাতার বাঁশি বাজান ওহিদুল

নির্ল সাংস্কৃতিক একাডেমির অধ্যক্ষ উত্তম কুমার গোস্বামী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'বাঁশি বাজানো আমাদের গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশি। কিন্তু ওহিদুল গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে ধারণ করছেন। শিল্পী সত্ত্বার এমন বহিঃপ্রকাশ গ্রাম বাংলাতেই সম্ভব। ওহিদুল একজন প্রতিভাবান বংশীবাদক।'

ওহিদুল মন্ডল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'ছোট বেলায় দেখেছি, চাচাতো ভাই বাঁশি বাজাত। তার বাজানো দেখে মূলত আমি উৎসাহিত হয়েছি। ৩০ বছর ধরে আমি পাতা দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে আসছি। আমি দেখেছি, গ্রামের কৃষকেরা সারাদিন মাঠে কাজ করে এসে ক্লান্ত হয়ে যায়। কিন্তু তাদের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম প্রতিদিন কাজ শেষ করে গ্রামের মানুষদের একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য বাঁশি বাজাব।'

আপনার মতামত লিখুন :