লক্ষ্মীপুরে ছাত্রকে পিটিয়ে জখম: থানায় মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লক্ষ্মীপুর
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে এজাজ রায়হান (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষক ছায়েদুর রহমানকে আসামি করে সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন আহত ছাত্রের বাবা আরিফ হোসেন। বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠানো হবে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার তানযীমুল মিল্লাত একাডেমি থেকে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বুধবার বিকেলে এ ঘটনায় আহত ছাত্র রায়হানের ফুফা ও জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুল হক মাহবুব সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলেই পুলিশ পাঠিয়ে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় পাঠদানের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় মাদারাসা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আহত ছাত্র রায়হান সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবাসী আরিফ হোসেনের ছেলে ও তানযীমুল মিল্লাত একাডেমির ছাত্র। অভিযুক্ত ছায়েদ একই মাদরাসার শিক্ষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ দিন জ্বরে আক্রান্ত ছিল রায়হান। সুস্থ হলে বুধবার সে মাদরাসায় আসে। মাদরাসায় না আসার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক ছায়েদকে জ্বরের কথা জানায়। কিন্তু শিক্ষক তা শোনেনি। শাস্তি হিসেবে কুমড়া চেঙ্গি (পায়ের নিচ দিয়ে কান ধরে রাখা) দিতে বলে। এটা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই শিক্ষক লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এতে তার হাত-পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। মাদরাসা শেষে বাসায় ফিরলে জখম অবস্থায় দেখে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুল হক মাহবুব বলেন, ‘ইউএনও'র পরামর্শে আমরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আমরা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন জানান, ছাত্রকে পেটানোর ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শিক্ষক থানা হেফাজতে আছে। বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, ছাত্রকে পেটানোর ঘটনায় অভিভাবককে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই মাদরাসায় পাঠদানের কোনো অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও তারা পাঠ্য কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ জন্য মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :