পাওনা টাকা না দেওয়ায় ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

খন্দকার সুজন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, মানিকগঞ্জ
আসবাবপত্র লুট করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পাওয়ানাদার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আসবাবপত্র লুট করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পাওয়ানাদার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাওনা (সুদে দেওয়া) টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আট্টিগ্রাম ইউনিয়নের কাটিগ্রাম মাঝিপাড়া এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ঋণ নেওয়া মাছ ব্যবসায়ী দেবদাস স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘরবাড়ি ও এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। আর পাওনা টাকা না পেয়ে দেবদাসের ঘরের আসবাবপত্র লুট করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পাওয়ানাদার আসমা বেগম।

ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দেবদাসের বড় ভাই কালিদাস রাজবংশী। তিনি জানান, কাটিগ্রাম মাঝিপাড়া এলাকার মৃত ঠাকুরদাস রাজবংশীর ছেলে দেবদাস রাজবংশী একই এলাকার মৃত লাল মিয়া ডাক্তারের মেয়ে আসমা বেগমের কাছ থেকে মাসিক ১০ শতাংশ সুদ হারে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা দেওয়ার সময় দেবদাসের কাছ থেকে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক নেন আসমা বেগম।

এদিকে, সুদের টাকা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করলেও মূল টাকা একসাথে ফেরত দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন দেবদাস। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আসমা বেগমের সাথে দেবদাসের কথা কাটাকাটিও হয়। এক পর্যায়ে দেবদাসের কাছ থেকে নেওয়া ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে আদালতে মামলা করার হুমকি দেন আসমা বেগম। পরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে এক মাস যাবত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দেবদাস।

এই সুযোগে গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দিনে দুপুরে আসমা বেগম ও তার ভাই সাঈদ, ভাবি রীনা বেগম ও তার মাসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজন দেবদাসের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় আট্টিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ভাঙচুর-লুটপাটের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। দেবদাসের অনুপস্থিতিতে তার ঘরের তালা ভেঙে লুট করা আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সব জিনিস ফেরত দেওয়ার জন্য আসমা বেগমকে বলা হলেও তিনি তা ফেরত দেননি।’

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সোহরাব হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আসমা বেগম ও তার ভাই সাঈদ খুবই বেপরোয়া জীবনযাপন করেন। সাঈদ মাদক মামলার আসামি, একাধিকবার কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন। সুদের কারবারি করায় লুটপাট করলেও তাদেরকে বাধা দেওয়ার মতো সাহস এলাকার কারো নেই।’

এ বিষয়ে আসমা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ধার হিসেবে দেবদাসকে চলতি বছরে মার্চ মাসে এক লাখ টাকা দিয়েছিলাম। দেবদাস আমাকে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেকও দিয়েছিল। পরে টাকার জন্য দেবদাসকে চাপ দিলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাই তার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আসবাবপত্র লুটপাট ও ভাঙচুরের বিষয়টি বানোয়াট।’

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযোগ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :