মানুষের হাসিতেই ওদের জীবিকা

মোহাম্মদ রনি মিয়াজী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, পঞ্চগড়
সার্কাস দেখিয়ে আয় উপার্জন করছেন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষেরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সার্কাস দেখিয়ে আয় উপার্জন করছেন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষেরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গঠনে ক্ষুদ্রাকৃতি, উচ্চতায় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট। হাত পা খাটো, পরনে ঢিলেঢালা পোশাক, তাদের প্রতিটি কথায় যেন হাসি লুকিয়ে থাকে। মানুষগুলো শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। অঞ্চলভেদে তারা বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা বামন বা বনমানুষ নামেই পরিচিত।

গঠনে ক্ষুদ্রাকৃতি ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় কাজ করার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কাজ মেলে না। ফলে সমাজে তারা কেবল উপহাসের পাত্র মাত্র। তবে বুক ভরা চাপা কষ্টের মাঝেও জীবিকার তাগিদে জোকারি পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে কখনো সার্কাস আবার কখনো বিভিন্ন হাট-বাজারে শারীরিক কসরত ও অভিনয় করে মানুষের বিনোদন দেন এই বামনরা। এতে মানুষ তাদের যা দেয় তা দিয়েই চলে সংসার।

বার্তা২৪
খেলা দেখিয়ে মানুষ হাসানোর চেষ্টা করেন তারা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার চৌরাস্তা বাজারে হঠাৎ খেলা দেখাতে দেখা যায় শহিদুল ইসলাম (৫০), আব্দুর রহিম (২৫) ও মোহাম্মদ রহিম (২৪) নামে ৩ বামনকে। তারা বিভিন্ন শারীরিক কসরত, খেলা ও অভিনয় করে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছিলেন।

জানা গেছে, এ তিন জনের বাড়ি নওগাঁ জেলা শহরের পৌরসভার চকেনার্থ এলাকায়। তারা মানুষের মুখে হাসি ফোটালেও তাদের রয়েছে সীমাহীন দুঃখ।

দুই বামনের সার্কাস, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

শহিদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রহিম ও তার ছেলের বন্ধু মোহাম্মদ রহিম বেছে নিয়েছেন জোকারি পেশা। সারাবছর সার্কাস না চলায় দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে খেলা দেখান তারা।

এ বিষয়ে বামন শহিদুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। আমরা বনমানুষ বলে আমাদের কেউ কাজে নেয় না। তাই কাজ না পেয়ে জীবন ও সংসার বাঁচানোর জন্য জোকারি শুরু করি। আমি বিভিন্ন সার্কাস দলে কাজ করেছি। কিন্তু সারাবছর সার্কাস না চলায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যায়। আবার প্রতিবন্ধী হলেও ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারি না। তাই বিভিন্ন জায়গায় শারীরিক কসরত দেখিয়ে মানুষদের আনন্দ দেই। এখান থেকে যা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।’

বার্তা২৪
৩০ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন তারা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

আব্দুর রহিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমরা সমাজে উপহাসের পাত্র। প্রতিবন্ধী ভাতা যা পাই, তা দিয়ে কিছুই হয় না। তাছাড়া আমরা ভারি কাজও করতে পারি না। তাই মানুষকে বিনোদন দেয়ার কাজ বেছে নিয়েছি।'

এ বিষয় পঞ্চগড় 'ভূমিজ' নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কারিগর'র সভাপতি সরকার হায়দার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমাদের সমাজে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এসব মানুষরা বনমানুষ হিসাবে পরিচিত। আর এরা তেমন ভারি কাজ না পারায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সার্কাস ও বিভিন্ন হাট-বাজারে খেলা ও অভিনয় করে।’

মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তায় কেন্দ্রের (আশক) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান রেজা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষরা ভিক্ষাবৃত্তি না করে মেধাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করছে। আমরা যদি তাদের সহযোগিতায় একটু এগিয়ে আসি তাহলে তারা উপকৃত হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :