মা-বাবা হারা এতিমদের আলোর পথ দেখায় ওরা

শরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট, করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নড়াইল
মা-বাবা হারা এতিমদের জীবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মা-বাবা হারা এতিমদের জীবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মা-বাবা হারা এতিম শিশুদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে নড়াইল সদর উপজেলার ‘সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ এবং ‘আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা এতিমখানা’। ৩৮ বছর ধরে অসহায় এতিম শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের সীমানন্দপুর গ্রামে অবস্থিত সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এতিমখানাটি। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে এ এতিমখানা সমাজসেবার মাধ্যমে সরকারি অনুদান প্রাপ্ত হয়।

অন্যদিকে, একই গ্রামে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা সমাজসেবা নামের আরেকটি এতিমখানা। চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার নামে এর নামকরণ করা হয়।

একই গ্রামে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি এমিতখানায় পাঁচ শতাধিক ছেলে-মেয়ে রয়েছে। আশেপাশের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে বাবা-মা হারানো এসব এতিম শিশুরা। দর্জির কাজ, ছাগল পালন, মাছ চাষসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে।

দুটি এতিমখানার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- তাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, ভরণপোষণ এবং লেখাপড়ার সকল খরচ এতিমখানা থেকেই বহন করা হয়। ৬ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সের এতিমদের জন্য এ খরচ বহন করা হয়।

সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের থেকে পোড়াশোনা করেছেন মো. জাকির হোসেন। বর্তমানে নড়াইল জজ কোর্টে কর্মরত আছেন। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ছোট বেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে আশ্রয় পাই। সেখানে লেখাপড়া করে আল্লাহর রহমতে আজ আমি একটি সরকারি চাকরি পেয়েছি।’

আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা এতিমখানা থেকে শিউলি খানম নামে একজন লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে কালিয়া উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স সেবিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মতো শতাধিক এতিম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখন চাকরি করছেন।

আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা এতিমখানার সুপার কাজী আব্দুল কাদের এবং সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানার সুপার কাজী রাকিবুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমাদের এতিমখানায় প্রকৃত এতিমরাই থাকেন। সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সামান্য।

এতিমদের সহযোগিতায় সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘সমাজসেবার তত্ত্বাবধানে তিনটি উপজেলায় মোট এতিমখানার সংখ্যা ৪৩টি। এর মধ্যে সদরের সীমানন্দপুর গরীবশাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এবং আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বালিকা এতিমখানা জেলার মডেল এতিমখানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বছরের পর বছর এই এতিমখানা দুটি অসহায় এতিমদের মানুষ গড়ার কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :