চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসক ৪ জন

তোফায়েল হোসেন জাকির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম গাইবান্ধা
৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ছবি: সংগৃহীত

৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চল বেষ্টিত উপজেলা ফুলছড়ি। এ উপজেলায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এসব মানুষদের সরকারি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সটিতে মাত্র ৪জন চিকিৎসক রয়েছেন। বিভিন্ন পদের ২০টি পদ এখনো খালি। বিভিন্ন পদ শূন্য হওয়ায় হাসপাতাল কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।

জানা যায়, চরাঞ্চলবেষ্টিত ফলছড়ি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করেন। তাদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা এ হাসপাতালটি। বিগত সময়ে বিভিন্ন কারণে হাসপাতালটিতে অচলাবস্থা তৈরি হলেও বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইউএইচএফপিও, আরএমও, চিকিৎসক এবং সিনিয়র স্টাফনার্সসহ অন্যান্য কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় জনগণের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছিল। তবে জনবল সংকটের কারণে এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এখানে ৯ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৪ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। জুনিয়ার কনসালট্যান্টের মধ্যে গাইনি অ্যান্ড অবস, মেডিসিন, সার্জারি ও এনেসথেসিয়া কনসালটেন্টের পদ এখনো শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন হলো ডেন্টাল সার্জন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ দুটিও ফাঁকা। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিসহ মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ৪ জন মিড ওয়াইফের ৩ জন নিয়মিত কাজ করছেন। ১ জন জেলা হাসপাতালে ডেপুটেশনে কাজ করছেন। এক্ষেত্রেও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যাশিয়ারের ১টি পদ থাকলেও সেটি শূন্য রয়েছে। পরিসংখ্যান পদটি ফাঁকা হলেও এ পদে এখনও পদায়ন করা হয়নি। ফার্মাসিস্ট এবং স্টোর কিপারের ২টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এখানে নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১২ জন, অফিস সহকারী ৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ জন। নিরাপত্তা প্রহরী ২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১জন, বাবুর্চি ২টি পদের বিপরীতে আছেন ১ জন। টিকিট কাউন্টারে বাধ্য হয়ে এমএলএসএস দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নকর্মীর মোট পদ ৫টি। এরমধ্যে ১ জন ইতোমধ্যে ডেপুটেশনে জেলা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছে। ১ জন নিয়মিত রংপুরে বসবাস করে। বাকি ৩ জনের ১ জন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

এমতাবস্থায় মাত্র ২ জন অনিয়মিত কাজ করলেও ডেঙ্গুসহ বর্তমান সংকটকালীন সময়ে পুনরায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ১জন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে জেলায় বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কার্যত ১ জন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছেন। এভাবে হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা একেবারেই দুরূহ হয়ে পড়েছে।

গাইনি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম বেগম নামের এক অন্তঃসত্ত্বা বলেন, ‘শারীরিক অসুবিধার জন্য গাইনি বিভাগে এসেছিলাম। হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।’

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও, এখনও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উপজেলা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অতিদ্রুত ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রদান করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং এ আলোচনা হয়েছে। শূন্যপদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :