অনুমোদনহীন, তবুও পরিধি বাড়াচ্ছে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত

রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিংয়ের অনুমোদন না থাকলেও প্রতিনিয়ত পরিধি বাড়াচ্ছে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল সেবা দিচ্ছে অন ডিমান্ড রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার। দেশীয় প্রতিষ্ঠান পাঠাও রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি ফুড ও পার্সেল ডেলিভারিও দিচ্ছে। মোটরসাইকেল শেয়ারিং দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন অন ডিমান্ড অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে ইজিয়ার। বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীতার করছে ওভাই, ওবোন। আর ওয়েজ নামে নতুন একটি কোম্পানি শিগগিরই কার পোলিং সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

যদিও রাইড শেয়ারিংয়ের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিধান না থাকলেও ইজিয়ার তা মানছে না। আর বিধান ভঙ্গ করে ঢাকায় ট্যাক্সি ক্যাবে রাইড শেয়ারিং সেবা দিচ্ছে পাঠাও।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘এখনও কোনো রাইড শেয়ারিং কোম্পানি নিবন্ধন নেয়নি। নিবন্ধন নেওয়ার যে শর্তাবলী তা আংশিক পূরণ করায় প্রথম দফায়  তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. শামসুল হক বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘কোনো দেশে এ ধরণের সেবা চালু করতে গেলে ব্যাপক প্রচারণার দরকার হয়। প্রচারের পর যখন ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী চালক সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছায় তখন এটাকে নিয়ন্ত্রণের  পর্যায়ে আনতে হয়। এখন ঢাকায় রাইড শেয়ারিং খুবই ‘কমন’ হয়ে গেছে। তাই এখনই এটাকে নীতিমালার আওতায় আনা উচিৎ।’

রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর তথ্য মতে, ঢাকায় ব্যস্ততম দিনে সবচেয়ে বেশি রাইড শেয়ারিং হয় মোটরসাইকেলে। সব মিলিয়ে দিনে রাইড শেয়ারিং হয় ৫০ হাজার। যাতে প্রায় পৌনে এক লাখ লোক যাতায়াত করেন।

বিআরটিএ’র নীতিমালা অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিং কোম্পানির সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ভাণ্ডারে বিআরটিএ’র অ্যাকসেস থাকতে হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত বিআরটিএ রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর কোনো তথ্যই জানতে পারেনি। আর তথ্য শেয়ার করার বিষয়েও আপত্তি আছে কোম্পানিগুলোর।

এমন অবস্থায় ঢিমেতালে চলছে রাইড শেয়ারিং নিবন্ধন প্রক্রিয়া। কিন্তু সেবার পরিধি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটে পৌঁছে গেছে। অন্যান্য শহরের কয়েকটি কোম্পানি তাদের সেবার পরিধি বাড়াবে। উবার সর্বশেষ ঢাকায় ‘উবার এক্স’ চালু করেছে। তবে বর্তমানে উবার অ্যাপে ‘উবার এক্সএল’ সেবা দেওয়া হচ্ছে। যদিও কোম্পানিটি এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

একই সেবার দিকে যেতে চাচ্ছে পাঠাও। পাঠাও এর আগে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে তাদের মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে রাইড শেয়ারিং চালু করে। এছাড়া ফুড ডেলিভারি ও কুরিয়ার সার্ভিসও দিচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার এই নীতিমালা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেনি। হঠাৎ করেই এটা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর