কেয়ামত পর্যন্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকবে: বিটিআরসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের গণশুনানি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের গণশুনানি

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রযুক্তিগত সমস্যা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তিনি বলেন, মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত সমস্যাগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরা গণশুনানির মাধ্যমে মানুষের সমস্যাগুলো শুনে সমাধান করার চেষ্টা করছি।

বুধবার (১২ জুন) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ সম্পর্কিত এক গণশুনানিতে এ মন্তব্য করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব আবার কিছু সমস্যা কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ের পর এবং বিভিন্ন ধরনের এক্সপার্টদের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। তাই ধৈর্য ধরে প্রত্যেককে প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে হবে।

গণশুনানিতে বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পূর্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানির অভিযোগ আজ কেন প্রকাশ করা হচ্ছে? ৯০ দিনের মধ্যে গণশুনানির ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও বিটিআরসির কেন সেই বাধ্যবাধকতা নেই? গ্রাহকরা অপারেটরদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তার পক্ষে অপারেটররা মতামত না দিয়ে কমিশন কেন তাদের পক্ষপাতিত্ব করছে? ভয়েস কলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনের কাছে জানতে চাইলে কমিশনের উত্তর— বিশ্বের দুই-একটি দেশ ছাড়া বাংলাদেশের কলরেট সবচেয়ে কম। এমএনপি’র ডিপিং চার্জ কেন? এর উত্তরে কমিশনের বক্তব্য— বিষয়টি ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখা হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ফোরজি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু স্পেকট্রামের উচ্চমূল্যের কারণে অপারেটররা নিলামে প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনছে না। এ বিষয়ে কমিশনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। ফোরজির গতি নিয়ে কমিশনের বক্তব্য— ফোরজি সেবা পেতে আরও সময় লাগবে। ফাইভ-জি নিয়ে গ্রাহকদের মতামত নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমিশন বলেছে— বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে ৬ মাসের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করা হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার দাবি জানালে কমিশনের উত্তর, সামাজিক উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দিয়ে হাওর ও দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবসায় নৈরাজ্য ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে গণশুনানিতে জানায়। সাড়ে সাত লাখ রিটেইলারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতি জেলায় বিটিআরসি’র কার্যালয় ও লোকবল নিয়োগ করে তদারকির তাগিদ জানান মহিউদ্দিন আহমেদ।

গণশুনানিতে বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, কমিশনার (স্পেকট্রাম) মো. আমিনুল হাসান, কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস) মো. রেজাউল কাদের, কমিশনার (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) প্রকৌ. মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালকরা নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংঘ, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন, বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তাদের অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে গত ২৪ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিটিআরসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে ২০২ জন গ্রাহক মোট ১৩১৯ অভিযোগ/প্রশ্ন/মতামত কমিশনকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে গণশুনানি সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৬৫ জনকে গণশুনানিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায়।

প্রশ্নসমূহের মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ ও বিভিন্ন প্যাকেজ (ভয়েস, ডাটা বান্ডল) এবং এর মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন, সাইবার অপরাধ, মোবাইল ফোনে হুমকি, ফেসবুক ব্যবহারে নিরাপত্তা, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ফাইভজি, অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, মোবাইল অপারেটরদের কল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য টেলিকম সেবাপ্রদানকারী লাইসেন্সধারীদের সেবা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :