'প্রযুক্তি ভয়ের নয়, শিখে নেওয়ার বিষয়'

কিশোরগঞ্জ: হাজার যত্নপাতিতে ঠাসা ঘর। সারাইখানা নয়, মনে হবে আত্মমগ্ন গবেষকের বিচিত্র জগৎ। কেউ এনেছেন আইপিএস, কেউ এমপ্লিফায়ার, কেউ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস। একের পর এক যন্ত্রগুলো দেখছেন তিনি। ঠিক করে ফেরতও দিচ্ছেন।

অদ্ভুত হাতযশের মাঝবয়েসী লোকটির নাম এস.এম. এ. মুনতাকিম। পাপ্পু নামেই সবাই চেনেন তাকে। শহরের পুরান থানা শহীদি মসজিদের সামনে বাদশাহ মিয়া ডাক্তারের গলিতে তার প্রতিষ্ঠান 'ইলেকটোন ইলেকট্রনিক্স'।

নামেই প্রতিষ্ঠানের মর্ম বোঝা যায়। সাউন্ড আর ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নিয়ে তার কারবার। কিশোরগঞ্জের সব কারিকর যখন ব্যর্থ হন, তখন তার কাছে মানুষ আসেন। জটিল, অচেনা ডিভাইস ও ইকুইপমেন্ট সারাতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

তেমন কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তিনি নেন নি। কিছু ডিপ্লোমা আর সার্টিফিকেট কোর্স সম্বল। তবু সব কিছু সারাচ্ছেন কিভাবে? 'প্রযুক্তি ভয়ের নয়, শিখে নেওয়ার বিষয়' প্রশ্নের উত্তরে জানালেন তিনি। বললেন, 'ভালোবেসে হাত দিলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। যন্ত্র আর প্রযুক্তিও ভালোবাসা বোঝে।'

বার্তা২৪.কমের সাথে আলাপে এস.এম. এ. মুনতাকিম বলেন, 'মানুষ প্রযুক্তিকে অহেতুক ভয় পায়। এটা আমাদের দেশের মানুষের একটি সাধারণ প্রবণতা। তারা জটিল যন্ত্রকে ভয় পাওয়ার ভ্রান্তিতে ভোগেন। এই মানসিকতাই আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে।'

এস.এম. এ. মুনতাকিম বলেন, ' বাচ্চারাও আজকাল অনেক জটিল ডিভাইস চালাচ্ছে। কিন্তু অনেক বয়স্ক লোকই ভয়ে সেসব ধরছে না। অথচ যন্ত্রগুলো ইউজার্স ফ্যান্ডলি।'

নিজের প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই করেছেন তিনি। কোনও যন্ত্র সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ওয়েবপেজ ঘেঁটে সমাধানসূত্র ডাউনলোড করেন। প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে কিছু না কিছু শিখাচ্ছেন। মধ্য রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে তার প্রতিষ্ঠান।

'শুধু ব্যবসা নয়, প্রযুক্তির জগতে ডুব দেওয়াও আনন্দের। নিত্য-নতুন সমস্যা নিয়ে ভাবতে বা নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অতুলনীয়', বললেন এস.এম. এ. মুনতাকিম পাপ্পু। তার স্বপ্ন হলো মানুষ প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাক সামনের দিকে। তরুণ প্রজন্ম হোক প্রযুক্তি-বান্ধব। তার বিশ্বাস, 'বাংলাদেশের কিশোর-তরুণরা খুবই মেধাবী। নতুনরা প্রযুক্তিকে করায়ত্ত করলে দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে।'

 

টেক এর আরও খবর