Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বৌদ্ধ আর হিন্দু দেবতাদের নিষিদ্ধ মিশ্রণ

বৌদ্ধ আর হিন্দু দেবতাদের নিষিদ্ধ মিশ্রণ
সালা কাও খু: ভাস্কর্যের বাগান
মাজেদুল নয়ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নং খাই
থাইল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

থাইল্যান্ডের উত্তরের ছোট প্রাদেশিক শহর নং খাই। প্রতিবেশী দেশ লাওসের সঙ্গে সীমান্ত এই শহরের। যাদের ভাগ করেছে মেকং নদী।

শনিবার সকালে ঘুম ভাঙলো দেরিতে। লাওস থেকে আমাদের বন্ধু পাতিতিন এসেছেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। নদীর ওপারেই লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন। নিজের সাইকেল নিয়েই চলে এসেছে এখানে৷ নং খাই কানালায়ায়েউই ওয়াক্লেহংয়ের চেয়েও ভালো চেনেন পাতিতিন। ও হ্যা, পাতিতিনের ডাক নাম কং আর কানালায়ায়েউইয়ের ডাক নাম পে।

আগের সন্ধ্যায় মেকংয়ের তীরের সান্ধ্যকালীন বাজার দেখা হয়েছে আর নদী তীরে রাতভর আড্ডা। তাই শনিবারে ঠিক করলাম সাইক্লিং করব আর দেখতে যাবো সালা কাও খু।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563121703721.jpg
এই শহর খুব ছিমছাম। মানুষের তুলনায় প্যাগোডার সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। আর ড্রাগনের যে প্রভাব রয়েছে, সেটা রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট থেকে শুরু করে যেকোন স্থাপনার দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। প্রায় ৫ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌছালাম সালা কাও খু'তে। সূর্য যেন আজ সকাল থেকেই আগুন ঢেলে যাচ্ছে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল বুদ্ধের দাঁড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ মূর্তি৷ আর সাপের সাতটি ফনা৷

সালা কাও খু'তে ঢুকতে গুণতে হলো ১০০ টাকার টিকিট। এরপর যেন অভিভূত হওয়ার পালা৷ এখানকার ভাস্কর্যগুলো রহস্য ছড়ানো। কারণ এর নির্মাণেই যেন ছড়িয়ে আছে রহস্য। এই সালা কাও খু নির্মাণে সময় লেগেছে ২০ বছরের বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রহস্যে ঘেরা এক সাধু লুয়াং পু বৌন লিউয়া সৌরিরাত এই ভাস্কর্যের বাগান নির্মাণ করেছিলেন গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে৷ ১৯৯৬ সালে পরলোকগমন করেন লুয়াং পু। কিন্তু তার সাধনায় নির্মিত বুদ্ধ, শিব, ভিষ্ণু এবং আরো দেব-দেবীর মূর্তিগুলো যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি চোখে পড়ার মতও।

শুধু হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম নয়, লু পাং অন্যান্য ধর্ম-সংস্কৃতি থেকেও নিয়েছেন উপাদান। যেমন তার শবদেহ চিতায় না দিয়ে তার ইচ্ছেনুযায়ী কবর দিয়ে মাজার বানানো হয়েছে। আর এই মাজারের গঠন একেবারেই প্যাগোডার সঙ্গে যায় না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563121727097.jpg
এই লুয়াং পু এবং কাও খু নিয়ে বেশ জ্ঞান রয়েছে কংয়ের। সে বললো, লুয়াং পু নিজের জীবনিতে বলেছেন, তিনি শৈশবে একটি গর্তে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। যেখানে তার সঙ্গে কাও খু নামে একজন সন্নাসী ভূ-গর্ভের এক রহস্যময় জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকেও একজন পুরোহিতে রূপান্তরিত করেন। পরে ভিয়েতনামে এক যোগীর কাছে হিন্দু ধর্মের দীক্ষাও নেন তিনি। বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের মিশ্রণ করে নতুন এক মৌলিক ধর্মীয় ধারণার উদ্ভব ঘটান লুয়াং পু। মেকং নদীর তীরের আশপাশে তার অনুসারি বাড়তে থাকে হু হু করে। এমনকি এই কাও খু’র ভাস্কর্যের বাগান প্রকল্পও করার কথা ছিল লাওসে। তবে ১৯৭৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি লাওস নিয়ন্ত্রণে নিলে সেখান থেকে সরে থাইল্যান্ডের নং খাইতে চলে আসেন তিনি।

এখানে ভাস্কর্যগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটলে ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় আবেশ পাওয়া যাবে না। বরং কিছুটা অদ্ভুত আর রহস্যঘেরা যেন সব কিছু। এখানে প্রথমে ঢুকলেই একজন সর্পদেবী রয়েছেন। তার পেছনেই এক ঝাঁক কুকুরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে হাতি। ভাস্কর্যগুলো নিখুঁত৷ গড়নে রয়েছে শিল্পের ছোঁয়া৷

এখানে আরেকটি বড় ভাস্কর্য আমাদের মতো অনেককেই ভাবাচ্ছে। একটি কুকুর মাঝখানে। তার পেছনে একটি সাপ ফনা তুলে রয়েছে। আর অপর পার্শ্বে ধনুক হাতে তরুণ। এই ভাস্কর্যে তিনটি চরিত্র কে কাকে রক্ষা করছে বা মারতে চাচ্ছে সেটি বোঝার উপায় নেই। থাই ভাষায় লেখা রয়েছে বর্ণনা। পে সেটি পড়ে আমাদের জানালো, এটাই হচ্ছে দৃস্টিভঙ্গি। আসলে তুমি যেটা বিশ্বাস করতে চাও সেটাই দেখতে পাবে৷
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563121750262.jpg
এখানে দুটি মাঝারি ধরনের পুকুর রয়েছে। পুকুরে মাগুর মাছের ঝাঁক। দেখে মনে হয় এক-একটি মাছের ওজন ৫ থেকে ১০ কেজির কম হবে না। দর্শনার্থীরা অনেকেই পাউরুটি ছুড়ে দিচ্ছেন আর এক গালেই পুরে নিচ্ছে মাছগুলো। এই মাছ এবং এখানকার কবুতরগুলোকেও পবিত্র আর রহস্যঘেরা বলে বিশ্বাস করেন অনুসারীরা।

সেখানে কিছুক্ষণ বসে থেকে আমরা হেঁটে হেঁটে ভাস্কর্যগুলোর রহস্য উন্মোচনের ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। এখানে সবচেয়ে উঁচু ভাস্করর্যটি ২৫ মিটার। যেটাতে একটি কালসাপের বুক বরাবর বসে আছেন বুদ্ধ আর সাপটির মাথা ৭টি।

এখানকার ভাস্কর্য আর মূর্তিগুলো দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, সাপ ভালোবাসতেন লুয়াং পু। কং বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন, ভবিষ্যত সময় সাপের। সাপের কোন হাত পা নেই পৃথিবী ধ্বংস করার মতো। তাই এটি এক পবিত্র প্রাণী। তিনি নিজেকেও অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক সাপ বলে ভাবতেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563121778711.jpg
লুয়াং পু'র অনুসারীরা এই ভাস্কর্যের বাগানটি তৈরি করেছেন তার সন্ন্যাসী কাও খু'র স্মরণে। লুয়াং পু তার জীবনীতে বলেছেন, তার অনুসারীরা কেউ ভাস্কর নয়, তবে সবাই হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে এই ভাস্কর্যগুলো বানিয়েছেন৷

১৯৯৬ সালে লুয়াং পু'র মৃত্যু হলে তার অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু পরের বছরই লুয়াং পু'র এই সর্পকেন্দ্রিক দেবতা প্রার্থনা নিষিদ্ধ করে নং খাইয়ের স্থানীয় সরকার।

এখানে হাঁটার সময় হঠাৎ করেই যেন হিম হয়ে আসে শরীর। মনে হয় যেন কোন অশরীরি আত্মা ঘোরাফেরা করছে৷ লুয়াং পু'র সাপের ভাস্কর্যগুলো কেমন যেন রহস্যময় হাসি দিয়ে রেখেছে।

দুপুরের রোদে আমাদের যেন কাহিল দশা। মেকংয়ের তীর ধরে হোটেলে ফিরতে আবার ৫ কিলোমিটার সাইক্লিংয়ের কথা ভাবতেই লুয়াং পু'র রহস্য মাথা থেকে উবে গেল!

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি
ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনী থেকে ফিরে: হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেনী। ঐতিহ্যের অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ফেনীর গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তেমনি এক ঐতিহ্য ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি। শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে দীঘিটি। তবে এর ইতিহাস নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য।

অনেকে দীঘিটিকে প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের অমরকীর্তি হিসেবে দেখেন। তাদের মতে ৫-৭ শত বছর আগে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন দীঘিটি খনন করেন। আবার অনেকে মনে করেন, দীঘিটি খনন করেন স্থানীয় রাজা বিজয় সেন। পরে রাজার নামানুসারে দীঘিটির নামকরণ করা হয় ‘বিজয়সিংহ দীঘি’।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217003950.jpg

বর্তমানে ফেনী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন দীঘিটির আয়তন ৩৭.৫৭ একর। ফেনী শহরের ২ কিলোমিটার পশ্চিমে সার্কিট হাউজের পাশে বিজয় সিংহ গ্রামে অবস্থিত নয়নাভিরাম দীঘিটি। এর তিন দিকে উঁচু টিলা, যা সবুজ বৃক্ষ ও লতাপাতায় ঘেরা। একপাশে সমতল, যেখানে রয়েছে গোসল ও ওজু করার ঘাট, মানুষের বসার জায়গা ও সরকারি সার্কিট হাউজ।

কথিত আছে, প্রায় ৬-৭ শত বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভাবশালী একজন রাজা তার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার বাসনা থেকে এ দীঘি খনন করেন। আবার কেউ মনে করেন, রাজা বিজয় সিংহ তার মাকে খুশি করতে এ দীঘি খনন করেন। দীঘিটিতে একসময় সোনা ও রুপার থালা ভেসে উঠত। একদিন এক ভিখারিনী একটা থালা চুরি করে। এরপর থেকে আর থালা ভেসে ওঠে না!
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217023979.jpg

আরও কথিত আছে, এ দীঘিতে ৮০-১০০ কেজি ওজনের মাছ পাওয়া যেত। ফেনীর কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান তার ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে কমলা সুন্দরীকে জ্বিন দীঘিতে নামিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন। অনেকে মনে করেন জহির রায়হান এই দীঘির কথাই উল্লেখ করেছেন।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ পর্যন্ত কেউ দিঘিটি পুরোপুরিভাবে সেচ দিতে পারেননি। ফলে এখনও মানুষ দূর দূরান্ত থেকে এ দীঘিতে গোসল ও পানি নিতে আসেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217044009.jpg

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে দীঘিটির চারপাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে দীঘিটির পাড়ে ওয়াকওয়ে, আরসিসি গ্যালারি, লাইটিং, সীমানা প্রাচীর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়; যা দীঘিটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। রাতে দীঘির পাড়ে লাইটের আলোতে এক নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটে ওঠে। দীঘিটির পাড়ে বিভিন্ন দিবসে জনতার ঢল নামে। জমে ওঠে মেলা। কেউ পরিবার-পরিজন আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সময় কাটাতে যান দীঘির পাড়ে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার সায়েদাবাদ বা টিটিপাড়া থেকে বাসে করে ফেনীর মহিপাল নামতে হবে। গাড়ি ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা। পরে মহিপাল থেকে রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে সোজা বিজয়সিংহ দীঘি যাওয়া যায়। রিকশায় গেলে ১০-১৫ টাকা ভাড়া এবং হেঁটে গেলে ১০ মিনিট সময় লাগবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217071459.jpg

যেখানে খাবেন:

ফেনীর মহিপালে অনেক ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যে খাবার পাওয়া যায়। হোটেলগুলোর মধ্যে খ্যাতি আছে—শাহিন হোটেল, ফুড পার্ক রেস্তোরাঁ, ইত্যাদি হোটেল ও আলমাস হোটেলের।

যেখানে থাকবেন:
বিজয়সিংহ দীঘির অত্যন্ত কাছে ফেনী সার্কিট হাউস গড়ে তোলা হয়েছে। আর দীঘি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর অবস্থান। এছাড়া চাইলে এলজিইডি রেস্ট হাউজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউজে আছে থাকার ব্যবস্থা।

ফেনী শহরে রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে—হোটেল মিড নাইট বা হোটেল গাজী ইন্টরন্যাশনাল।

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা
হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

লালমনিরহাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা। ঈদ উপলক্ষে আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমছে সেখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশাল আয়তনের শালবনের নিরিবিলি পরিবেশ মনোমুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও বিনোদনপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ শালবন। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে শালবনটি। বনের বড় বড় গাছের নিচে আলাদা করে লাগানো বেতগাছ সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে ভিন্নমাত্রা। বেতগাছে অনেক কাঁটা থাকায় দর্শনার্থীদের চলতে হবে দেখে-শুনে। শালবনে ঘুরতে বা প্রবেশ করতে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958178016.jpg
শালবনে আগতরা বলছেন, নানারকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কর্মসংস্থান হবে স্থানীয়দের। বিশাল এই শালবনে নিরপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কলেজছাত্র কাহার বকুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগমে ভরে ওঠে শালবন। বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এ শালবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জোর দাবি জানাই।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958202314.jpg
নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যাপ্ত বনরক্ষী না থাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রায় একর আয়তনের এ শালবন রক্ষায় বনবিভাগের এই বিটে জনবল সংকট রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সাথে পর্যটনসেবা বঞ্চিত বিনোদনপ্রিয় জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের স্পট হতে পারে এই শালবন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958245666.jpg
যেভাবে যাবেন:
লালমনিরহাট শহর থেকে সড়ক ও রেলপথে হাতীবান্ধায় নেমে রিকশা ও ভ্যানযোগে মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই শালবনে। বনে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি দোকান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র