তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো



ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর, বার্তা২৪.কম
তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। ছবি: বার্তা২৪.কম

তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রজব আলী। একজন তরল দুধ বিক্রেতা। প্রতিদিন বিকেল হলে দুধের বালতি নিয়ে হাটে আসেন। সন্ধ্যার আগেই বিক্রি শেষ করে ফিরে যান বাড়ি। প্রতিদিন ১০-১৫ লিটার দুধ বিক্রি করে তার আয় হচ্ছে পাঁচশ টাকার মতো।

রজব আলীর মতো অনেকেই বালতি ও বোতলে করে দুধ নিয়ে আসে। তাদের অনেকেই এখন দুধ বিক্রির বাড়তি আয়ে সচ্ছল।

রোববার (৩১ মার্চ) বিকেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটে তরল দুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

চরাঞ্চল বেষ্টিত পীরগাছায় তরল দুধের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কয়েকশ দরিদ্র পরিবার। গাভী ও মহিষ পালনের পাশাপাশি তরল দুধের ব্যবসায় বাড়তি আয়ের পথ খুলেছে তাদের। এই উপজেলার অনেকেই তরল দুধের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে। ভাগ্যের পরিবর্তনও ঘটেছে অনেকের।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া রজব আলী বলেন, ‘মোর বয়স ৭০ হইছে বাহে। তারপরও মোক পরিবারের বোঝা সামাল দেওয়া লাগে। বাড়ির দুইট্যা গরুর দুধ বিক্রি করি সংসার ভালোয় চলে। প্রতিদিন ১০-১৫ লিটার দুধ বিক্রি করে ৫০০ টাকার মতো আয় হয়। ওই টাকা দিয়ে সংসারও চলে। নাতি-নাতনির টুকটাক খরচও হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554027717511.jpg

রফিক নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, গ্রামের অনেকেই এখন তরল দুধ বিক্রি করে সচ্ছল হয়েছে। কেউ কেউ হাটের বাইরে গিয়েও উৎপাদিত দুধ বাজারজাত করছে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির ডিপোতে বিক্রি করা হয়।

চর তাম্বুলপুরের মোজাহার আলী। এক যুগের বেশি সময় ধরে দুধের ব্যবসা করছেন। দুধ বিক্রি করে তার প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচশ টাকা আয় হয়। তিনি বলেন, ‘একটা সময় চার ছেলে ও দুই মেয়েসহ সাত সদস্যের সংসারে অভাব অনটন ছিল। কৃষি কাজের আয় দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে কষ্ট হতো। পরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটা গরু কিনি। পাশাপাশি কৃষি কাজও করতাম। এখন দুইটা গরুর দুধ থেকে প্রতিদিন বাড়তি আয় হচ্ছে। এই আয়ে সংসারের অভাব দূর হয়েছে।’

মূলত চরাঞ্চলের গাভী ও মহিষের দুধ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরা। তাই তরল দুধ বিক্রি করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে তাদের এই ব্যবসা আরও প্রসারিত হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে অনেক দরিদ্র পরিবার।