বেল শরবতের কদর বাড়ছে পাটুরিয়া ঘাটে!

খন্দকার সুজন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, মানিকগঞ্জ, বার্তা২৪.কম
বেল শরবতের কদর বাড়ছে পাটুরিয়া ঘাটে। ছবি: বার্তা২৪.কম

বেল শরবতের কদর বাড়ছে পাটুরিয়া ঘাটে। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে: প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এর মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলগামী সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের কাছে এমন চিত্র বেশ চিরচেনা। আর এমন গরমে বেল শরবতের কদর বাড়ছে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেল শরবতের চাহিদা থাকলেও দুপুরের দিকে এর কদর বেশি। বিকিকিনি বেশি হওয়ায় ক্ষণিকের এ ব্যবসায় লাভবান ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মৃত হেলাল মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫৫)। সংসার জীবনে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক তিনি। পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে পড়াশোনার কোনো সুযোগ পাননি তিনি। প্রায় এক যুগ ধরে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গামছা বিক্রি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বার্তা২৪.কমের এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সারা বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে গামছা এনে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বিক্রি করেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাঝে মাঝে পেশাবদল হয় বলেও জানান তিনি।

এ সময় তিনি জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাটুরিয়া এলাকায় মানুষের আনাগোনা থাকে। প্রচণ্ড গরমে মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ। বিষয়টি ভেবে বেল শরবতের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেল সংগ্রহ করেন। পরে এসব বেলের সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টাকার শরবত বিক্রি করেন। যার প্রায় অর্ধেকটাই তার মুনাফা হয় বলেও জানান তিনি।

আব্দুর রহিম নামের এক বাসযাত্রী বার্তা২৪.কমকে জানান, ছোট এক বোতল পানির দামে পাওয়া যাচ্ছে এক গ্লাস বেলের শরবত। এছাড়া বেল শরবত শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এ কারণেই বেলের শরবত কিনেছেন তিনি।

এদিকে শহীদুল ইসলামের মতো আরও প্রায় অর্ধশত ভাসমান ব্যবসায়ী রয়েছে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। ডাব, লেবু শরবত, বেল শরবত, আনারস ও বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে এসব ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য জানান, মাঝে মাঝে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়। আবার ঘাট এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বসে অস্থায়ীভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালায় তারা।

আপনার মতামত লিখুন :