১১০ কোটির মানি লন্ডারিং মামলায় নিউ বসুন্ধরার এমডি কারাগারে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বাগেরহাট
আব্দুল মান্নান তালুকদার, ছবি: সংগৃহীত

আব্দুল মান্নান তালুকদার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষের কাছ থেকে ১১০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় বাগেরহাটের ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেটে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান তালুকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ মামলায় প্রায় দেড় মাস ধরে পলাতক থাকার পর আব্দুল মান্নান তালুকদার সোমবার বাগেরহাট জেলা ও দায়েরা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বাগেরহাট জেলা ও দায়েরা জজ গোলক চন্দ্র বিশ্বাস জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আব্দুল মান্নান তালুকদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া বাদী হয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সাবেক উমেদার ও বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেটের এমডি আব্দুল মান্নান তালুকদার এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুরপাড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আনিসুর রহমানের নামে গত ৩০ মে বাগেরহাট মডেল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।

উচ্চহারে সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১১০ কোটি ৩১ লাখ নয় হাজার ১৩৫ টাকা আমানত সংগ্রহ করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অপরাধলব্ধ আয় স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর করায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২), ৪ (৩) ৪ (৪) ধারায় মামলা দায়েরের পর কোম্পানিটির এমডি ও চেয়ারম্যান বাগেরহাট ছেড়ে পালিয়ে যান।

দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়, বিগত ২০১০ সালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আব্দুল মান্নান তালুকদার স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামে জমি কেনা-বেচার একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা গ্রাহকদের প্রতি লাখে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রলোভনে বাগেরহাট, খুলনাসহ বেশ কয়েকটি জেলার অন্তত ২০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ২৯৯ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। যা ব্যাংকিং আইন পরিপন্থি। গত কয়েক বছরে বাগেরহাটের ১৬টি ব্যাংকের ৩০টি (অ্যাকাউন্ট) হিসাব থেকে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা জমা করে গ্রাহকদের ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে পাচার করেন তারা। ২০১৮ সালের শেষ দিকে কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। প্রায় তিন মাস আগে অনুসন্ধানে নেমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক। দুদক এখন ওই টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে তা অনুসন্ধান করছে।

আপনার মতামত লিখুন :