ব্রিজ নেই, হাজারও মানুষের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা



আরিফ সিদ্দিকী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, পাবনা
উপজেলা শহরে যেতে খেয়া নৌকায় উঠছেন এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

উপজেলা শহরে যেতে খেয়া নৌকায় উঠছেন এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা-বরদানগর এলাকাসহ আশেপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষার দিনে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাট-বাজার বা হাসপাতালে যাতায়াতে তাদের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। একটি ব্রিজের অভাবে তারা খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন দীর্ঘদিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ- জাতীয় সংসদ, উপজেলা এমনকি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্ষাকালে গোমানী নদীতে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বরদানগর, বিন্যাবাড়ি, লাঙ্গলমোড়া, চরনবীণ, বনমালী নগর, চিনাভাতকুর, বহরমপুর, করিমপুর, গৌর নগর, নিমাইচড়াসহ অন্তত পনেরটি গ্রামের মানুষকে খেয়া নৌকায় উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর নৌকায় পার হতে হয়। অসুস্থ কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। মাঝেমধ্যে অনেক শিশু শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপের কারণে গ্রামগুলোতে দোকানপাট খুব একটা নেই। কৃষকরা আবাদকৃত জমির ফসল শহরে নিতে না পারায় বাধ্য হয়ে গ্রামে বসেই কম দামে বিক্রি করতে হয়।

তবে ব্রিজ নির্মাণ হলে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতি ফিরবে বলে মনে করেন এলাকাবসী।

খেয়া নৌকার মাঝি ইদ্রিস আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নগদ টাকা আর ফসলের বিনিময়ে ঘাটটি ইজারা নিয়ে ৫ বছর ধরে খেয়া নৌকায় গ্রামের মানুষদের পারপার করে আসছি। বৈঠা দিয়ে নৌকা চালিয়ে স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে পারাপার করতে হয়। দিনদিন শরীরের শক্তি কমে যাচ্ছে। তাছাড়া ইজারা নিয়ে লোকসানের মুখেই পড়েছি।’

নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, ‘একটি ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর সেখানে ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ আসলে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ব্রিজের ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। ডিজাইন শেষ হলেই স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’