স্কুলের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বরগুনা
ভোগান্তির রাস্তা পার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ভোগান্তির রাস্তা পার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনায় বিলে থই থই পানি, তার বুকে উত্তর কড়ইবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি স্থাপিত হয় ১৯৮৯ সালে। দীর্ঘ ৩১ বছরে বিদ্যালয়ের সড়কে একটি ইটও পড়েনি। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হয়ে যায়। ফলে স্কুলে আসতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন। প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা এই হাঁটু সমান কাদা পার হয়ে লেখাপড়া করতে আসে স্কুলে। এছাড়া রাস্তাটি দিয়ে একটি মাদরাসার শতাধিক শিক্ষার্থীও আসা যাওয়া করেন।

এদিকে চলতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটিতে হাঁটু সমান কাদার সৃষ্টি হওয়ায় পাঁচ গ্রামের মানুষ বিশেষ করে কৃষকরা তাদের জমিতে ফলানো বিভিন্ন ফসল বিক্রির জন্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্কুলের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজিব, হৃয়দ হাসান, রায়হান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয়। এখন আর কাদায় হাঁটতে কষ্ট মনে হয় না। প্রতিদিন দুইটি শার্ট প্যান্ট নিয়ে স্কুলে আসি, কারণ কাদা দিয়ে হাঁটলে পড়ে গেলে স্কুলে এসে পাল্টাইয়া ফেলি। অনেক সময় স্কুলে আসতেও পারি না।'

মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থী নায়িমা, আফছানা, সুমাইয়া, জান্নাতি ও মাহমুদা বলেন, 'আমাদের এই রাস্তা দিয়ে তিন কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মাদরাসায় যেতে হয়। রাস্তার যে অবস্থা তাতে প্রতিনিয়ত কাদা পানি ডিঙিয়েই যেতে হয়। জামা-কাপড় নষ্ট হয়।'

স্কুলের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

উত্তর কড়ইবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'বর্ষার সময় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বেশ কষ্ট হয়। কেউ বা কাদার ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। এতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়ছে।'

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমাদের বরাদ্দ কম থাকায় স্কুল পর্যন্ত ধীরে ধীরে ইটের সলিং হচ্ছে।'

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ বলেন, 'বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এখনো এভাবে কষ্ট করে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা করেন। আমার এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেব।'