বছর না ঘুরতেই দেবে গেছে সেতুর সংযোগ সড়ক

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
নান্দাইলে কাঁচামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত মধুপুর সেতু

নান্দাইলে কাঁচামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত মধুপুর সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের নান্দাইলে কাঁচামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত মধুপুর সেতুর সংযোগ সড়ক দেবে গেছে। দেবে যাওয়া অংশের মাটি একটু একটু করে ধসে পড়ছে। সেতুটির লাগোয়া প্যালাসাইটে দেখা দিয়েছে ফাটল। ঢালাই ও মাটি সরে বেরিয়ে পড়েছে রড।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়ক দেবে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক সংস্কারে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর জেলার ত্রিশাল-বালিপাড়া ও নান্দাইল (কানুরামপুর) সড়কে মধুপুর এলাকায় কাঁচামাটিয়া নদীর উপর মধুপুর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত সেতুটির নির্মাণব্যয় ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নান্দাইলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন তুহিন সেতুটির উদ্বোধন করেন। তবে সেতু উদ্বোধনের এক বছর না পেরুতেই সেতুর সংযোগ সড়ক দেবে যায়।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির পশ্চিমপাশের সড়ক দেবে গেছে। দেবে যাওয়া অংশের মাটি একটু একটু করে ধসে পড়ছে। সেতুটির লাগোয়া প্যালাসাইটে দেখা দিয়েছে ফাটল। ঢালাই ও মাটি সরে বেরিয়ে পড়েছে রড।

স্থানীয়রা জানান, নান্দাইলের কানুরামপুর থেকে ত্রিশালের বালিপাড়া পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করে নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষে হলে এ সড়ক দিয়ে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ না করে কম সময়ে ত্রিশাল হয়ে ঢাকায় যেতে পারবেন এ অঞ্চলের মানুষ। প্রতিমুহূর্তে সড়কটি দিয়ে ভারী যান চলাচল করছে। কিন্তু মধুপুর সেতুটির সংযোগ সড়কটি দেবে যেতে শুরু করায় শঙ্কা বাড়ছে সড়কে চলাচলকারীদের।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ নান্দাইল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল হোসেন বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজের সময় প্যালাসাইট ধরা ছিল না। কিন্তু ঠিকাদারকে দিয়ে প্যালাসাইট করানো হয়। রাস্তার কাজও ধরা ছিল ১২ ফুটের মতো। কিন্তু করা হয় ৩০ ফুটের বেশি। এ অবস্থায় সড়কটি দিয়ে অতিমাত্রার লোড নিয়ে যান চলাচল করায় দেবে গেছে। তবে কানুরামপুর-বালিপাড়া সড়ক নির্মাণের যে কাজ চলছে তার সঙ্গে সেতুর দেবে যাওয়া ওই অংশটিও সংস্কার করা হবে।