পাহাড়ের ঝর্না হয়ে উঠেছে মৃত্যুকূপ!



আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বান্দরবান
নাফাখুম জলপ্রপাত, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নাফাখুম জলপ্রপাত, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টিতে বান্দরবানে পাহাড়ের রোমাঞ্চকর এবং মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য ছড়ানো ঝর্নাগুলো হয়ে উঠেছে বিপদজনক। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করছেন বেড়াতে আসা পর্যটকরা। এছাড়া সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড এবং দিক-নির্দেশনা না থাকায় স্পটগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

ইতোমধ্যে তিনাপ সাইতার, রিজুক, নাফাখুম, অমিয়খুম, রেমাক্রি, শৈলপ্রপাত, দামতুয়া, রুপালী ঝর্না ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ভ্রমণে গিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, চিকিৎসক, আইডিয়াল কলেজের ছাত্রসহ অনেকের প্রাণ গেছে। তারপরও টনক নড়েনি স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন করপোরেশনের।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি জেলা হচ্ছে বান্দরবান। বৈচিত্রময় এ জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, দেশের সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া, ডিমপাহাড়, আলীর সুরঙ্গ, দেবতা পাহাড়, বড়পাথর, স্বর্ণ মন্দির, নদী, চা বাগান, দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ এবং অসংখ্য ঝর্নাধারা।

দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, থানচি উপজেলার- নাফাখুম, অমিয়খুম, রেমাক্রি ঝর্না, রুমা উপজেলার- রিজুক, তিনাপ সাইতার, জাদীপাই, চিংড়ি ঝর্না, আলীকদম উপজেলার- দামতুয়া, কুরুতপাতা ঝর্না, বান্দরবান সদরের- শৈলপ্রপাত, রুপালী, আমতলীপাড়া ঝর্না।

 

তবে বর্ষায় পাহাড়ের ঝর্নাগুলোর সৌন্দর্য যেন অন্যসব দর্শনীয় স্থানগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। অনেক দূর থেকে শোনা যায় পাহাড়ের উপর থেকে ঝরে পড়া স্বচ্ছ পানির শব্দ। এ যেন অন্যরকম এক অনুভূতি। চমচম করে শরীর, শিউরে ওঠে শরীরের লোমগুলো। তবে লাগাতার বৃষ্টিতে পাহাড়ের রোমাঞ্চকর এবং মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য ছড়ানো ঝর্নাগুলো হয়ে উঠেছে বিপদজনক।

ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ভ্রমণের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য এখনো গড়ে তোলা হয়নি কোনো সড়কপথ। কখনো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে, কখনো পাথরের ওপর দিয়ে, কখনো পাহাড়ি ছড়া-খাল পার হয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় ঝর্নাগুলোতে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রোমান সিদ্দিকী, রেদোয়ান হাসান, ইসিতা রহমান, সামিয়া বলেন, বৈচিত্রময় বান্দরবানের সৌন্দর্য। পাহাড়ের প্রাণ, ঝর্নাগুলো সবচেয়ে কাছে টানে পর্যটকদের। তবে বর্ষায় চলাচলের পথগুলো পিচ্ছিল এবং পানির গভীরতা বেড়ে যায়। এতে ঝর্নাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপদজনক হয়ে ওঠে। কিন্তু এর জন্য সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড এবং দিক-নির্দেশনা চোখে পড়েনি।

জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, দামতুয়া ঝর্নার সৌন্দর্য বর্ধন এবং চলাচলের জন্য পথ তৈরির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো সমস্যা নেই। তবে বৃষ্টির সময় ঝর্নায় যাওয়ার পাহাড়ি পথগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং পানিও বেড়ে যায়। এ কারণে লাগাতার বৃষ্টি হলে নাফাখুম, তিনাপ সাইতারসহ দুর্গম পাহাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঝর্নাগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিজেদেরও আরেকটু সতর্ক থাকা দরকার।’