ইসি সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের শাস্তি চাইল বিএনপি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়ি পুড়ানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি।

নির্বাচন কমিশন থেকে আচরণ বিধি পালন সংক্রান্ত চিঠির পরই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি । শুধু সচিব নয়  ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনোর উপকমিশিনার আর ও সচিবালয়ের যুগ্ম সচিরেও শাস্তি চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এসংক্রান্ত চিঠি দেয়। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই বিচার চাওয়া হয়। এই শাস্তি চাওয়া চিঠিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দেয় প্রতিনিধি দল।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর  পরের দিন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাস্তা বন্ধ করে যানজট সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে । মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকা ঢোল পিটিয়ে মটরসাইকেল গাড়ি পিকপাকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধানমন্ডি যায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে মনোনয়ন সংগ্রহ করে। এছাড়া নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়। এসময় ঘটনায় পুলিশি তো তৎপরতা না নিয়ে বিএনপি মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্বত:ফূর্ত জনগণের ঢল দেখে নির্বাচন কমিশন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের গায়ে জ্বালা ধরে। কমিশন নড়ে নড়ে বসে। কথিত আচরণ বিধি খড়ক নেমে আসে বিএনপির উপর । ইসি সচিব গণমাধ্যম আচরণ বিধি পালনের কঠোর হুমকি নিয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করে। এটি একটি পক্ষপাতমুলক আচরণ।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা নেতাকর্মী সমর্থকসহ জনগণের অংশগ্রহণকের বাধাগ্রস্থ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দেয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক এবং ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে ঘটনা সংঘঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

চিঠিতে প্রশ্ন রাখা হয়, আওয়ামীগের জনসমাগমে এই ঘটেনি কিন্তু বিএনপি সময় ১৪ নভেম্বর এঘটনা কিভাবে ঘটল?

চিঠিতে দাবি করা হয়, এই সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির অনেক নেতা কর্মী আহন হয়েছে ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করা হযেছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৪৭২ জন নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছে। ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে এবয় ৩৮ জন নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চিঠির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির চরম বিঘ্ন সৃষ্টি, নিরাপত্তা নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে।

এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মেট্রাপলিটন  পুলিশের কমিশনার সংশ্লিষ্ট জোনো উপপুলিশ কমিশনার এবং উদ্দেশ্যমূলক জারিকৃত পত্রের স্বাক্ষরকারী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ( নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত আইনের আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হব।’

পরে এক দলটির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করছি। কমিশন মাঝে মাঝে চেষ্টা করছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে তারা সেটি করতে পারছে না।

আপনার মতামত লিখুন :