Alexa

গ্রেফতারে নিষেধ ইসির, তবে পুলিশের দাবি ফৌজদারি মামলা!!

গ্রেফতারে নিষেধ ইসির, তবে পুলিশের দাবি ফৌজদারি মামলা!!

ছবি: বার্তা২৪

নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই রাজনৈতিক গ্রেফতার নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। সরকার ও ইসির আশ্বাসের পরও স্বস্তি পাচ্ছে না দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপির অভিযোগ, তফসিল ঘোষণার পরও বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্পষ্ট নিষেধ করা হলেও, পুলিশ বলছে গ্রেফতারকৃত সবাই ফৌজদারি মামলার আসামি।

সম্প্রতি পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মামলা না করার নির্দেশ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ওই সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে বসে পুলিশ কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উপস্থিত পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও ফৌজদারি মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পিছপা হবে না পুলিশ। এতে কোনও বাধাও দেখছেন না তারা। এমন একটি সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে বৈঠকে। বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মামলা না করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি; এ ধরনের হয়রানি করাও হচ্ছে না। তবে ফৌজদারি মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।  

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তফসিলের পর থেকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া তাদের দলের ৫২৯ জন নেতাকর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছেন। এর আগেও বিএনপি দুই দফায় তাদের দলের গ্রেফতারকৃতদের তালিকা দিয়েছে ইসিতে।

নির্বাচন কমিশন কিছুটা নমনীয় হলেও গ্রেফতারের বিষয়ে ছাড় দিচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের গাড়ি পোড়ানোসহ পুলিশ যেগুলো ফৌজদারি মামলা বলছেন, বিএনপি সেগুলোকে বলছে রাজনৈতিক মামলা। 

অন্যদিকে পুলিশ নির্দেশনা না মানলে কমিশন কি করতে পারে?  এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তফসিল ঘোষণা থেকে চূড়ান্ত রেজাল্ট এবং সেটা গেজেট হওয়া পর্যন্ত যে নির্বাচনকালীন সময় আছে।  এটুকু সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কমিশন নিতে পারে"।

আইনানুগ ব্যবস্থা বলতে পুলিশ যদি নির্দেশনা না মানে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা কোনো দলের হয়ে কাজ করি না। সরকারের নির্দেশনা মেনেই কাজ করি। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা মাঠে কাজ করে করে থাকি।

পুলিশের জরুরি বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা  বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনকালীন কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন :