Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইলিয়াসের কেন্দ্রে সেদিন কোনো ভোট পড়েনি

ইলিয়াসের কেন্দ্রে সেদিন কোনো ভোট পড়েনি
মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন তাহসিনা রুশদী লুনা। ছবি: বার্তা২৪.কম
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভোট শূন্য নয়, এবার ভোট বিপ্লব চান নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদী লুনা। ইলিয়াসকে ভালোবেসে যে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাননি, সেই ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটাবে বলে প্রত্যাশা তার। বিগত নির্বচানে ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে নজির সৃষ্টি করেছিল ইলিয়াসের জন্মস্থান রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটাররা।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে গাড়ি চালকসহ নিখোঁজ হন এম ইলিয়াস আলী। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে সিলেট। তার সন্ধানের দাবিতে নির্বাচনী এলাকা সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনের সাধারণ নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসে। ওই আসনের ২ বারের এমপি ছিলেন তিনি। ইলিয়াসের সন্ধানের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ২৩ এপ্রিল পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান মনোয়ার হোসেন (২৬) ও জাকির হোসেন নামে দুই কর্মী।

ইলিয়াসের নিখোঁজের বিষয়টি তার নির্বাচনী এলাকার লোকজনকে কতটা মর্মাহত করেছিল তার প্রমাণ দেন সাধারণ ভোটাররা। দগদগে ক্ষত নিয়ে ইলিয়াসের জন্মস্থান রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটাররা কেউই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি।

পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ি রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ছিল শূন্য। এই কেন্দ্রে মোট ভোট ছিল ১ হাজার ৯১০টি। দিন শেষে শূন্য ভোট বাক্স নিয়ে ফিরতে হয় প্রিসাইডিং ও পুলিং অফিসারদের। আশপাশের কেন্দ্রগুলোরও অবস্থা ছিল শোচনীয়। অলংকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট ছিল ১ হাজার ১০৬টি। ভোট কাস্ট হয় মাত্র ২টি। রামপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেদিন ভোট পড়েছিল মাত্র ৮টি, বন্ধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাস্ট হয়েছিল ১১টি।

মির্জারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২ হাজার ৬৬টি ভোটের মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছিল মাত্র ৯৬টি। বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রেরই এমন চিত্র ছিল সেদিন। যদিও সেই ভোটে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী ছিল না। জোটবদ্ধ ভোট হওয়ার কারণে জাতীয় পার্টিকে সেই আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপিও তখন নির্বাচনে আসেনি।

আসন্ন একাদশ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বতর্মান সংসদ সদস্য ইয়হিয়া আহমদ চৌধুরীর বিপরীতে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। কৌশলগত কারণে তার ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্নবকে সঙ্গে নিয়ে মা-ছেলে দুজন মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

তাহসিনা রুশদী লুনার মতে, তার স্বামীকে ভালোবেসে যারা পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক মেলে ধরতে পারে, তারা ধানের শীষের বিজয়ে জীবন বাজি রাখতেও পারে। তিনি জানান, ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথের জনগণ তার স্বামী নিখোঁজের জবাব দেবে। আগেরবার সুযোগ পায়নি, ভোট না দিয়ে প্রতিবাদ করেছে, এবার ভোট দিয়ে ইলিয়াসের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ করবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ নভেম্বর) হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে শাশুড়ির দোয়া নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাহসিনা রুশদী লুনা। স্বামী নিখোঁজের পর থেকে তিনিই হাল ধরেন সিলেট-২ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র