Alexa

মানিকগঞ্জ-৩: উন্নয়নে ভরসা স্বপন, তবে বিএনপির জনপ্রিয়তা…..

মানিকগঞ্জ-৩: উন্নয়নে ভরসা স্বপন, তবে বিএনপির জনপ্রিয়তা…..

খেজুরের গুড় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ

'প্রতিমন্ত্রী স্বপন এলাকার অনেক উন্নতি করেছে। হাসপাতাল করেছে। ফুটওভার, রাস্তাঘাট পাকা করেছে, ফোর লেন রাস্তা হয়েছে, অনেক কিছুর উন্নয়ন করেছে। মানুষ উন্নয়ন দেখলে স্বপন সাহেবকে ভোট দিতে পারে।'

তবে বিএনপি থেকে দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর জেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান আতা সাহেব যদি মনোনয়ন পায়, তাহলে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কারণ আতা সাহেব অনেক জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান। মানুষ অনেক পছন্দ করে। অন্যদিকে রিতাও কম না।'

মানিকগঞ্জ -৩ আসনের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জ সদরের খেজুরের গুড় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ। বোঝা গেলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ রাজনীতির ভালোই খবর রাখেন।

সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদরের একাংশ নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট সাত জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, বিএনপির জেলা বিএনপি সভাপতি আফরোজা খান রিতা ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতা, গণফোরামের মফিজুল ইসলাম খান কামাল, জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল আলম রুবেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইব্রাহিম হোসেন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির রফিকুল ইসলাম অভি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/01/1543663093467.jpg

তবে আলোচনা মূলত: আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ মালিক স্বপন এবং বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে। নৌকা মার্কায় ইতিমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। বিএনপির প্রার্থীর দৌঁড়ে রয়েছে দুইজন।

ভোটকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ কর্মীসভা করে প্রচারণা আগে ভোটের মাঠ চাঙা করে নিচ্ছেন।

এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল থাকলে নেতারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় তৃণমূলের কোনো কোন্দল নেই। এখন সবাই এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ের জন্যই কাজ করছেন।

আর জাহিদ মালেক স্বপন এলাকার জন্য ব্যাপক কাজ করেছেন, তাই বিজয় ছিনিয়ে নিতে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মানেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এদিকে বিএনপির পক্ষে থেকে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনী মাঠে তারা এখনও সবর না। বিএনপি নেতারা বলছেন, নেতা-কর্মীদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের ভয়ে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না। গতকালও একজনের নামে গায়েবি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে আতাউর রহমান আতা তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খান রিতার রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। তার পিতা বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বর্ষীয়ান নেতা হারুনার রশিদ খান মুন্নু। এই আসন থেকে যিনি দুইবারের নির্বাচিত এমপি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। তাই বাবার আসন উদ্ধারে তিনিও বদ্ধপরিকর।

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠানিক সম্পাদক আব্দুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে আমরা তার হয়ে কাজ করব। তবে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু হতে হবে। ভোট নিরপেক্ষ হলে যেকোনো প্রার্থী দিলে আমরা জয়ী হবো। প্রচারণা চালাতে গিয়ে ধরপাকড় হলে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত হবে না।

তবে ভোটাররা মনে করেন, নির্বাচনে দুই দলের তুমুল লড়াই হবে। কারণ সরকারের কাজ আর বিএনপি নেতাদের জনপ্রিয়তার মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। সবকিছু ছাপিয়ে এবার মানিকগঞ্জবাসী চান সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার।

আপনার মতামত লিখুন :