Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘মার্কা নয়, প্রার্থী দেখেই ভোট দেব’

‘মার্কা নয়, প্রার্থী দেখেই ভোট দেব’
চুয়াডাঙ্গার দুই আসনের নেতাকর্মী এবং তরুণ ভোটাররা । ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য আর মাত্র ২৬ দিন বাকি আছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার দুইটি আসনে রাজনীতির মাঠে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কে হতে চলছে এই জেলার আগামীর কর্ণধার? এমন কৌতূহল কম-বেশি এখন সবার মনে।

এদিকে মনোনয়ন দেয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগ। তবে এবার দুটি আসনেই ভাবনা-চিন্তা করে ভোট দেবে ভোটাররা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ সংসদীয় আসন। ভোটার ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৮ জন। পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৮ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৮০ জন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী শোডাউন করছেন প্রতিদিনই। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলের মনোনীত প্রার্থী অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস।

অপরদিকে, দেশের অন্যতম সীমান্ত উপজেলা দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। এ আসনে ভোটার চার লাখ ১৪ হাজার ৭৬০ জন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে এখানে বরাবরই বিএনপি জোটের আধিপত্য। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজী আলী আজগর টগর সারা বছর এলাকায় থাকেন না। তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর এলাকায় ফিরে ভোটের প্রচারে নেমেছেন।

অন্যদিকে এই আসনে রয়েছে বিএনপির হেভিওয়েট একক প্রার্থী বাবু খান। অনেক আগেভাগেই তিনি নেমেছেন ভোটের প্রাচার-প্রচারণায়।

তবে এবারের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে নতুন ভোটাররা। গত ৫ বছরে চুয়াডাঙ্গায় মোট ভোটার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশ ভোটারই তরুণ। তাইতো বিভিন্ন উন্নয়নের কথার ফাঁকেও তরুণদের জন্য আলাদা হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে প্রার্থীদের। এ কারণে এলাকায় এলাকায় প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে তরুণদের নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা বলছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা।

কয়েকজন নতুন তরুণ ভোটার বলেন, ‘মার্কা নয়, প্রার্থী দেখে সৎ যোগ্য লোককেই ভোট দেব।’

চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৫২ হাজার ৬১৯ জন। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৭০৭ জন বেশি। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ২৮৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪৪৪ জন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮ হাজার ১৭০ এবং নারী ২ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র