চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

আলী আজগর টগর (বামে) ও মাহমুদ হাসান বাবু খান/ ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং জেলা সদরের তিতুদহ, বেগমপুর, গড়ইটুপি এবং নিহালপুর ইউনিয়নসহ মোট ২০টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজী আলী আজগর টগর। আর এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদ হাসান বাবু খানকে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনে এবার হাড্ডাহড্ডি লড়াই হবে।

বিএনপির প্রার্থী বাবু খান ক্ষমতার বাইরে থেকেও এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে বেশ জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। এমপি হলে নানারকম উন্নয়নের আশ্বাসও দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজী আলী আজগর টগরও বিগত দিনে তার বিভিন্ন উন্নয়নের কথা ভোটারদের কাছে বলে ভোট চাইছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে আলী আজগর ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও এবারের নির্বচনে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন তিনি। অতীতে এই আসনে বিএনপি জামায়াতের আধিপত্য থাকলেও এখন আর সেই অবস্থান নেই।’

জনপ্রিয়তা থাকলেও আলী আজগরের বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার আপন ভাইয়ের নাম চলে আশায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। জনশ্রুতী আছে, গ্রুপিং রাজনীতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় তৈরি করেছেন টগর লীগ।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মঞ্জুকে সমর্থন না করে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী সামছুল আবেদীন খোকনের হয়ে কাজ করে জয়ী করান। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আলী আজগর বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সর্ম্পন্ন মিথ্যা। আওয়ীমী লীগের সময় দুই আসনে যে উন্নয়ন করেছি তাতে এবারের নির্বচনে ভোটাররা আমাকে আবারও নির্বাচিত করবে।’

ভোটের মাধ্যমে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি উদ্ধার করতে চায় দলটি। এই বিয়য়ে বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ হাসান বাবু খান বলেন, ‘ভোটরা যদি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, তবে চুয়াডাঙ্গা বিএনপি ঘাটি হিসেবে পরিচিত আসনে আবারও বিএনপি জয়লাভ করবে। দল ক্ষমতায় গেলে ও নিজে নির্বাচিত হলে এই আসনে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা আছে।’

ভোটারা বলছেন, ভোটের সময় আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনের পর নেতারা বাইরে চলে যান। এলাকায় এখন অনেক নেতার দেখা মিললেও বড় বড় এসব নেতাকে আর কদিন পরে দেখাই যাবে না। তবে সবকিছু দেখে বুঝেই যোগ্য প্রার্থীকেই এবার ভোট দেবে ভোটাররা।

এ আসনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী আলী আজগার এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শেখ সিরাজুল ইসলাম পেয়েছিলেন আট হাজার ৩০ ভোট। ২০০৮ সালে আলী আজগর এক লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ ভোট।

২০০১ সালে চার দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ঐ সময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর্জা সুলতান রাজা পেয়েছিলেন এক লাখ সাত হাজার ৫০ ভোট।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও বিএনপির হাজী মোজাম্মেল হক নির্বাচিত হন। সেবার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মীর্জা সুলতান রাজা। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down