জীবনের প্রথম সুযোগেই বাজিমাত

মাজেদুল হক মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, মেহেরপুর, বার্তা২৪.কম
সাহিদুজ্জামান খোকন। ছবি: বার্তা২৪.কম

সাহিদুজ্জামান খোকন। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের প্রথম মনোনয়নের সুযোগ পেয়েই এমপি নির্বাচিত হলেন মেহেরপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাহিদুজ্জামান খোকন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন নির্বাচনে সুযোগ চাইলেও তা কপালে জোটেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি এখন মেহেরপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে সফল ও আলোচিত মানুষ। এমনটাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও কয়েকজন সাধারণ ভোটার।

দলের নেতাকর্মীরা সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই সাহিদুজ্জামান খোকনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ব্যক্ত করেন বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া।

সাহিদুজ্জামান খোকনের বিজয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাসের অভাব নেই। তার হাত ধরেই গাংনীতে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকবে এমন আশা প্রকাশ করেন অনেকেই।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সাহিদুজ্জামান খোকন মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মেহেরপুর জেলায় ছাত্রলীগের সফল নেতা হিসেবে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৮ ও ২০০১ সালে দুইবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে সফলতার জের ধরে পরবর্তীতে কাউন্সিলে তার নামই জোরেশোরে উচ্চারিত হয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কেউ সেভাবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হননি। দলের দুঃসময়ে আবারো কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মামলা-হামলার শিকার হন। প্রায় দেড় ডজন মামলা মাথায় নিয়েও পিছপা হননি।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও তিনি থেমে যাননি। ২০০৯ সালে গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা ছিলেন না তার পাশে। তবুও নির্বাচনে সম্মানজনক ভোট পেয়েছিলেন। বলা চলে একাই দেখিয়ে দিয়েছিলেন শেষ হয়ে যাননি তিনি।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গাংনীতে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের রাজনীতির মাঝে পড়ে উতরানোর চেষ্টা করছিলেন সাহিদুজ্জামান। শেষ পর্যন্ত আসে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান। যা মেনে নিতে পারেননি গাংনীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বদানকারী অনেক নেতা। তার মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা তদবির চলে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পেরিয়ে গেলে একে একে সব নেতাকে গুছিয়ে নেয়ার কাজে হাত দেন খোকন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফলও হন। দীর্ঘ দুই যুগের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের মাঠে দলের সব নেতাকে এক কাতারে দাঁড় করাতে সক্ষম হন। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে। নতুন শক্তিতে চাঙা নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করার শেষ পর্যন্ত আসে সেই বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ।

এ প্রসঙ্গে বিজয়ী সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘নির্বাচনে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা কোনো দিনও ভুলবার নয়। সারাজীবন যেভাবে মানুষের পাশে ছিলাম, একইভাবে বাকি জীবন কাটাতে চাই। এলাকার মানুষের চাওয়া-পাওয়ার দিকে নজর রেখেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।’

আপনার মতামত লিখুন :