Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

পায়ের তলায় মাটি নেই সেলিম-ইয়াহিয়ার!

পায়ের তলায় মাটি নেই সেলিম-ইয়াহিয়ার!
সিলেট-২ আসনে ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া ও সিলেট-৫ আসন থেকে মো. সেলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
সিলেট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পায়ের তলায় যেন মাটি নেই সিলেটের জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই প্রার্থীর। তারা বর্তমান সংসদ সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেল করার পর থেকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না তাদের।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা ভোটে সিলেট-২ আসনে ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া ও সিলেট-৫ আসন থেকে মো. সেলিম উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশ্য এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে কোনো কূটকৌশল কাজে আসেনি তাদের। উল্টো জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম দুই মহাসচিব।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা থেকে প্রার্থী ছিলেন ওই দুই সাংসদ। তারা মহাজোট সরকারের হয়ে করেছেন অনেক উন্নয়ন কাজ। তবুও তারা ব্যস্ত ছিলেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে পরাস্ত করার ষড়যন্ত্রে। এক্ষেত্রে অবশ্য সিলেট-২ (ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) আসনে ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া সফল হন। নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনার প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে আটকে দেন তাকে।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান উল্লেখ করে তাকে আটকে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হাফিজ মুজমদারের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন সেলিম উদ্দিন। তবে আদালত মজুমদারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সেলিম উদ্দিনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

মূলত ভোটের মাঠে বাস্তবে জাতীয় পার্টির সেলিম ও ইয়াহিয়ার সব চালাকির উল্টো ঘটেছে। একেবারেই ধরা খেয়ে যান তারা। মহাজোটের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সিলেট-২ আসনে গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানের কাছে হেরেছেন ইয়াহিয়া আহমদ চৌধুরী এহিয়া। অবস্থানের দিক থেকে হয়েছেন চতুর্থ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ৬৯ হাজার ৪২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া লাঙ্গল প্রতীকে পান ১৮ হাজার ৩২ ভোট। তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান (ডাব প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৪৯ ভোট) এবং এনামুল হক সরদার সিংহ প্রতীকে ২০ হাজার ৭৪৫ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-৫ আসনে সেলিম উদ্দিন অবস্থানের দিক থেকে হয়েছেন তৃতীয়। লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ২৪২ ভোট। আসনটিতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের হাফিজ আহমদ মজুমদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ১৫১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে সেলিম উদ্দিনের ভোটের ব্যবধান আকাশ-পাতাল।

এছাড়া সিলেটে জাতীয় পার্টির আরও তিনটি আসনে প্রার্থী ছিল। সিলেট-১ আসনে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫০২ ভোট, সিলেট-৩ আসনে উসমান আলী পান ২ হাজার ৯১৬ ভোট এবং সিলেট-৪ আসনে এ টি ইউ তাজ রহমান পেয়েছেন মাত্র ৪২৩ ভোট।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের এমন করুণ হারে হতাশ কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থীদের দেখা যাচ্ছে না নিজ নিজ এলাকায়। বিশেষ করে বর্তমান সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ইয়াহিয়া ও সেলিম উদ্দিনের এমন হার মেনে নিতে পারছে না কর্মী-সমর্থকরা। ভোটের সংখ্যা দেখে যেন পায়ের তলায় মাটি নেই এই দুই প্রার্থীর। আবার এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়াও দিচ্ছেন না তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র