Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়েছে কাজী জাফরউল্লাহ’র!

রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়েছে কাজী জাফরউল্লাহ’র!
কাজী জাফরউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
রেজাউল করিম বিপুল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফরিদপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে ভোটের মাঠে পরাজিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্লাহ। আর এই পরাজয়কে খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তার রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে। কাজী জাফরউল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্যও।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও ফরিদপুর-৪ আসনের সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর কাছে যেতে পারেননি কাজী জাফরউল্লাহ। এ কারণে সুযোগ বুঝে ব্যালট পেপারেই তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। পাশাপাশি তারা গ্রহণ করে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে।

নিক্সন সাবেক সংসদ মরহুম ইলিয়াছ চৌধুরীর ছেলে ও হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের ভাই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনটি সব সময়ই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এই আসনটি ৩০ বছর আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। অর্থাৎ ৬টি সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি। কাজী জাফরউল্লাহ নিজেই এই আসন থেকে ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অযোগ্য হওয়ায় তার স্ত্রী নিলুফার জাফরউল্লাহ নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে পরাজিত হন কাজী জাফরউল্লাহ।

এদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও এলাকার মানুষের জন্য কোনো উন্নয়ন বা খোঁজ খবর নেননি কাজী জাফরউল্লাহ। এ কারণেই মূলত স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয় তাদের।

ওই আসনের চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক মাস্টার বলেন, ‘কাজী জাফরউল্লাহ রাজধানীর গুলশান-বনানী-ধানমন্ডির নেতা। তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে তিনি একেবারেই বিচ্ছিন্ন। সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি বুক মেলানো তো দূরের কথা, হাতটা পর্যন্ত মেলাতে চান না। সেই নেতা কীভাবে নির্বাচনে জয়ী হবেন?’

তিনি বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরী পাশের জেলা থেকে এসেও এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার ব্যবহারও ভালো। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষ তাকে বুকে টেনে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্নতাই কাজী জাফরউল্লাহের পরাজয়ের কারণ। আর এই পরাজয়ে তার রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়েছে। এখন তার আর এই এলাকায় রাজনীতি না করাই মঙ্গল।’

সদরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাজী জাফরউল্লাহের কাছে নেতাকর্মীদের কোনো দাম নেই। অপরদিকে নিক্সন চৌধুরী স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করলেও আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তিনি দলের কর্মীদের ভালোবাসেন। বিপদে-আপদে পাশে থাকেন। এ কারণে এই আসনে কাজী জাফরউল্লাহের পরাজয় হয়েছে। তৃণমূলের কাছে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাস জানান, এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। কাজী জাফরউল্লাহের কাছে নেতাকর্মীদের কোনো দাম নেই। এ কারণে তার পরাজয় হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র