Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

বগুড়ায় উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা
ছবি: বার্তা২৪.কম
গনেশ দাস
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বগুড়ায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল শোডাউন, শীতের রাতে গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ, পোস্টারিং ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছে অনেকেই।

আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতারা উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় নামলেও বিএনপি ও জামায়াত এখনো নিশ্চুপ রয়েছে। আর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নেই তেমন কোনো আগ্রহ।

বগুড়ার ১২টি উপজেলায় বর্তমানে বিএনপির ৭ জন এবং জামায়াতের ৫ জন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। এর আগে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যারা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা সকলেই পরাজিত হন। দলীয় কোন্দলের কারণেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যানরা পরাজিত হন।

তবে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ না নেয়া এবং আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ইঙ্গিত আসার পরপরই আওয়ামী লীগ নেতারা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।

বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত বগুড়া জেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগের পক্ষে তেমন একটা আসে না। তবে এবার বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয় অনেকটা সহজ হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547279841046.jpg

অপরদিকে সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়েও মুখ খুলছে না জামায়াত। দলটি থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এখনো সময় আসেনি। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের যে সকল নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তারাই নতুন করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন লাভের আশায় আবারো মাঠে নেমেছেন। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে মাঠে নেমেছেন জাতীয় পার্টি থেকে কয়েকজন।

এদিকে শোডাউনের মধ্যে নতুন মুখের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রার্থীরা দিন দিন সরব হয়ে উঠলেও ভোটারদের মধ্যে কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি।

বগুড়া সদরের মহিষবাথান গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, শেখেরকোলা গ্রামের ভ্যান চালক হাফিজার, বাঘোপাড়ার চা দোকানি আব্দুস সাত্তারের কাছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ভোট নিয়ে আলোচনার সময় তাদের নেই।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বার্তা২৪.কমকে জানান, বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে না এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি চলছে।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টি-জামান নিকেতা বার্তা২৪.কমকে জানান, আওয়ামী লীগের পক্ষে যারা মাঠে নেমেছেন, তারা মূলত নিজ নিজ উদ্যোগে শোডাউন করছেন। প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। তবে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেক ভালো করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা

এরশাদের আসনে অক্টোবরের শুরুতে ভোটের পরিকল্পনা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনকে পরিকল্পনায় রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতোই উপ-নির্বাচনেও এই আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কথা ভাবছে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয় এরশাদের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আজ ইসির ৫০তম সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে আগস্টে ভোটের পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন দিবস উদযাপনের বিষয়টি মাথায় রেখে অক্টোবরের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ভোট করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নব্বই দিনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শূন্য হওয়ার দিন থেকেই নব্বই দিন গণনা করা হয়। ফলে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আছে।

গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

সংবিধানের ১২৩(৪) দফায় বলা হয়েছে- সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে নব্বই দিনের মধ্যে পদটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এ আসনে ইভিএম ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য উপ-নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইসির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট ঈদু আজহা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২৩ আগস্ট জন্মাষ্টমী এবং আগস্ট মাসরে ৮/৯ তারিখ পবিত্র হজ্জ পালন হবে। আর ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যে কোনো নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩৫-৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়।

এসব দিক বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সুবিধাজনক যে কোনো দিন, ১ থেকে ৩ অক্টোবরের অথবা ১০ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটের পরিকল্পনা ছিল। ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতার জন্যই সেপ্টেম্বরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন্যাসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে কমিশন চাইছে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট করতে। সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখ ইতোমধ্যে প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কমিশন যেদিন চাইবে সেদিনই ভোট হবে।

নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবরে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে আগস্টের শেষ অথবা ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আর সেপ্টেম্বরের শেষে নির্বাচন করতে হলে ২০ আগস্টের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই আসনে ভোটের সম্ভাব্য কিছু তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্টে ঈদসহ বিশেষ কিছু দিবস ও অনুষ্ঠান আছে। আজকের সভায় রংপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আসনে ভোটের জন্য আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর অক্টোবরের ৫ তারিখের মধ্যে ভোট হতে পারে।’

উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন।

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র