Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

জনপ্রিয়তার কারণেই উপজেলার চেয়ারম্যান হতে চান মাসুদ

জনপ্রিয়তার কারণেই উপজেলার চেয়ারম্যান হতে চান মাসুদ
মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের পীরগাছাতে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে এখন মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ। সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে উপজেলার সর্বত্রই চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠন এর নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসুদের ছবি দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোস্টার দিয়ে চেয়ারম্যান পদে সকলের কাছে দোয়া চাইছেন।

ইতোমধ্যে পীরগাছা উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশ করে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর চিঠিও দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত)। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ইতোমধ্যে তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে তার পক্ষে চলছে ব্যাপক গণসংযোগ।

দলের কাছে পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির আদর্শ হিসেবে পরিচিত মাসুদের যেমন সাংগঠনিক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তেমনি তিনি পরোপকারী, দরদি ও দক্ষ সংগঠক হিসেবেও বেশ পরিচিত। নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও রয়েছেন সমান জনপ্রিয়তা। একারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে মাসুদকেই দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় ভোটাররা।

এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে মাসুদের মত প্রার্থীর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তরুণরা। এব্যাপারে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন সরকার বলেন, ‘১/১১ এর সেনা সমর্থিত অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ছিলেন মাসুদ ভাই। তার মতো পরীক্ষিত মুজিব সৈনিকদের মূল্যায়ন করা উচিত’।

অন্যদিকে, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের নেকমামুদ এলাকার নতুন ভোটার ইসরাত জেসমিন জুঁই বলেন, ‘এখন তরুণদেরকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত। সবখানেই তারুণ্যের জয়। তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। সে কারণে পীরগাছা মাসুদ ভাইয়ের মত একজন প্রার্থী এখন সময়ের দাবি’।

পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা বাজারের কাছে কথা হয় আবুল হোসেন নামে এক বয়স্ক ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, ‘হামার চ্যাংড়া (যুবক) ছাওয়াক দরকার। মাসুদ হামার জাগার ছাওয়া। তার কোনো অহংকার নাই। হামরা চাই জাগার ছাওয়া দায়িত্ব পাউক’।

ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়েছেন মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ১/১১ তে নেত্রী মুক্তি আন্দোলনসহ বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার থেকেছি। পীরগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ করে গেছি। আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে সরকারের উন্নয়নকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবো। পীরগাছাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি মডেল উপজেলায় হিসেবে গড়তে কাজ করবো’।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র