Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ফরিদপুরের ৫ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

ফরিদপুরের ৫ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফরিদপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নয়টি উপজেলার মধ্যে আটটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি উপজেলায় স্বতন্ত্র ও তিনটিতে নৌকা মার্কার দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

সোমবার (১৮ মার্চ) সাকল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন, নগরকান্দা, সালথা, মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসন। এই তিনটি উপজেলাতে ওই আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সমর্থন পাওয়া বা তার কর্মী হিসেবে পরিচিতরা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

ভাঙ্গা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এস এম হাবিবুর রহমান আনারস প্রতীকে ৪৫ হাজার ৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রদিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম জাকির হোসেন পেয়েছেন ২৪ হাজার ২৮৬ ভোট।

সদরপুর উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকের কাজী শফিকুর রহমান ৩৬ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শায়েদীদ গামাল লিপু ৩৪ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়েছেন।

চরভদ্রাসন উপজেলায় মোশাররফ হোসেন ভিপি মুছা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আরেক স্বতন্ত্র পার্থী আনোয়ার মোল্যা আনারস প্রতীকে ৬ হাজার ১৩৮ ভোট পেয়েছেন। এই উপজেলা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী মো. কাউছার। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬২৮ ভোট।

নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার ২৯ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাহ জামান বাবুল আনারস প্রতীকে ২৯ হাজার ১৭ ভোট পেয়েছেন। চরম প্রতিদ্বন্দীমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এই উপজেলায়। কিন্তু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতেলেও মূলত সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি তার ছেলে লাবু চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দলের প্রার্থী এতটা প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে পড়তে হয়েছে। অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মী লাবু চৌধুরীর কারণে স্বন্তন্ত্র প্রার্থী হয়ে কাজ করেছেন।

সালথা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াদুদ মাতুব্বর আনরস প্রতীকে ৩৬ হাজার ১১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৮৫ ভোট। এই উপজেলাতেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন সংসদ উপনেতার ছেলে লাবু চৌধুরী। মূলত দলের প্রার্থীর বিরুদ্বে সংসদ সদস্যের পুত্রের অবস্থানের কারণে হেরেছেন দলীয় প্রার্থী।

বোয়ালমারী উপজেলায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম এম মোশাররফ হোসেন মুছা ৪৭ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনরস প্রতীকে লিটন মৃধা পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩১২ ভোট।

মধুখালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান বাচ্চু নৌকা প্রতীকে ৪১ হাজার ৬৬৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মনছুর নান্নু আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৫ ভোট।

আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একেএম জাহিদুল হাসান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাপ-পিরিচ পতীকে ১৩ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আকরাম হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৮৮ ভোট।

ফরিদপুরের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার নওয়াবুল ইসলাম এসব ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট

রুশেমা বেগমের আসনে উপ-নির্বাচন ১৮ আগস্ট
রুশেমা বেগম, ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১৮ আগস্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৫ জুলাই, বাছাই ২৮ জুলাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ আগস্ট।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রুশেমা বেগম মারা যান। এরপর দিন ১১ জুলাই এ আসন শূন্য করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায় সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী এমপি রুশেমার মৃত্যু

আরও পড়ুন: রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র