Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

সাতক্ষীরার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

সাতক্ষীরার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ
সাতক্ষীরায় চলছে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ভোট গ্রহণ রোববার (২৪ মার্চ)। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা।

শনিবার (২৩ মার্চ) থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে। তবে সাত উপজেলার ৫৯৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৯৭টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রসহ সর্বত্র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট গ্রহণে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নির্বাচনের দিন ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা থাকবে সাতক্ষীরা। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোনো রকম অরাজকতা সহ্য করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, কেন্দ্র দখলের চিন্তা যদি কেউ করে, আর আমরা যদি সেটা জানতে পারি, এমনকি কারো যদি বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনাও থাকে, তাহলে সে জীবন নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে না।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ২৩ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে শুধু দেবহাটা উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী ওজিয়ার রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ছাড়া সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই আওয়ামী লীগ অথবা অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা:
এখানে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কলারোয়া উপজেলায়:
চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিন পদেই লড়ছেন দুইজন করে প্রার্থী।

তালা উপজেলা:
এই পরিষদের নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজনসহ মোট ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আশাশুনি উপজেলা:
চেয়ারম্যান পদে দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।

দেবহাটা উপজেলা:
চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা:
চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শ্যামনগর উপজেলা:
দুই পদের বিপরীতে লড়বেন মোট ১০ জন প্রার্থী। এখানে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/23/1553323078087.jpg

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ১২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। তালা উপজেলার ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ, কলারোয়া উপজেলার ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৫টি ঝুঁকিপূর্ণ, দেবহাটা উপজেলার ৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ, আশাশুনি উপজেলার ৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, কালিগঞ্জ উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি ও শ্যামনগর উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া মোবাইল টিম সব সময় প্রস্তুত থাকবে। এক হাজার ৮৬৪ জন পুলিশ সদস্য তিন স্তরে নিরাপত্তা দেবেন। এর বাইরে আনসার, বিজিবি এবং র‌্যাবের সমন্বয়ে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র