Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হচ্ছেন টিটু

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হচ্ছেন টিটু
মসিক নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু/ ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটুকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন জতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমদ। 
 
মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে টিটুকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

 
এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মসিক নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
 
সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও সেখানে যোগ দেন। পরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুন্দর ও মডেল ময়মনসিংহ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি অ্যাড. সোহরাব উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইকরামুল হক টিটুকে নৌকার প্রার্থী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ও মহাজোটের স্থানীয় রাজনীতির সহাবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলাম।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে এসে যোগ দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমেদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বিরোধীদলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইকরামুল হক টিটু।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলের উপনেতার ইচ্ছা অনুযায়ী ময়মনসিংহকে একটি মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবো। এক পরিবারের মতো একে অপরে মিলেমিশে ময়মনসিংহকে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। পরে ১০ এপ্রিল যাছাই বাছাইয়ে দাখিলকৃত ভোটারদের জাল স্বাক্ষর জমা দেয়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন অঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও মসিকের রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি তারা।

ফলে এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ মে অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন।
আপনার মতামত লিখুন :

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ মেয়র প্রার্থী, ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে ভোট কাস্টের আটভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তিন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগ ও একজন বিএনপি নেতা।

নির্বাচনে ৭ হাজার ৬২১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ২০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৭ ভোট।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের পৌর মেয়র হলেন আ.লীগের মিজান

হবিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৭ হাজার ৮২০। এর মধ্যে কাস্ট হয় ২১ হাজার ১১৭ ভোট। কস্টিং ভোটেরে আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি তিন প্রার্থী। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তারা হলেন- বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ) পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মর্তুজ আলী (চামচ) পেয়েছেন ৩৯০ ভোট।

জেলা রিটানিং অফিসার মো. খোর্শেদ আলম জানান, কাস্টিং ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট না ফেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনজন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র