Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মসিকের প্রতীক্ষিত ভোটে আবহাওয়াই কি প্রতিপক্ষ?

মসিকের প্রতীক্ষিত ভোটে আবহাওয়াই কি প্রতিপক্ষ?
শনিবার দিনভর ময়মনসিংহ নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন রোববারের (৫ মে)। কাঙ্ক্ষিত সেই দিনটির একদিন আগেই ঘূর্ণিঝড় ফণীর ছোবলে বিরূপ আবহাওয়ায় তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

উৎসবের দিনটিতে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়াই কি তাদের মূল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে কিনা এমন ভাবনাও পেয়ে বসেছে তাদের। ফলে অনবরত প্রার্থনা চলছে, ভোটের সকালটা অন্তত মেঘহীন হোক। এমনটি হলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে ভোটারের উপস্থিতি।

ভোটের আগের রাতে বার্তা২৪.কম-কে এমনটিই জানিয়েছেন একাধিক কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী।

রোববার (৫ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শনিবার (৪ মে) সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556989396842.gif

ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব প্রার্থীর, সর্বশেষ ময়মনসিংহ সফরকালে এমন বাণীই শুনিয়ে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারেই ছুটেছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কিন্তু ভোটের আগের দিন তাদের আকস্মিক প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বৈরী আবহাওয়া।

ফণীর আঘাতে উপকূল লণ্ডভণ্ড হলেও ময়মনসিংহ ছিল মুক্ত। কিন্তু বড় দুর্যোগের রেশ বলে কথা! ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে ফণী সেখানে আঘাত হানায় শনিবার (৪ মে) দিনমান ময়মনসিংহের আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি ঝরেছে। ভোটারদের উদ্ধুদ্ধ করতে প্রার্থীদের সব রকমের পদক্ষেপ বুঝি ম্লান হতে বসেছে প্রকৃতির এই হেয়ালীপনায়।

নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শামছুল হক লিটন বলছিলেন, ‘প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। ভোটাররাও কথা দিয়েছেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার। কিন্তু প্রকৃতি যেভাবে বাঁধ সেধেছে এমনটি হলে হতাশায় ডুবতে হবে প্রতিটি প্রার্থীদেরই।’ কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়েই বলছিলেন এই প্রার্থী।

সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোদেজা আক্তার বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন ভোটাররা। আবহাওয়া সেই উন্মাদনায় চিড় ধরাতে চাইছে। তবে প্রথম ভোট হওয়ায় সব প্রতিকূলতা পায়ে মাড়িয়ে ঠিকই ছুটবেন প্রার্থীরা।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগেই মেয়র পেয়েছে ময়মনসিংহ মহানগরবাসী। কোনো প্রতিপক্ষ না থাকায় ময়মনসিংহ পৌরসভার শেষ মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু নির্বাচিত হয়েছেন সিটির প্রথম মেয়র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556989425576.gif

প্রথমেই ধারণা করা হয়েছিল, মেয়র পদে ভোট না হওয়ায় প্রচার-প্রচারণা জমবে না। কিন্তু কাউন্সিলর প্রার্থীরা সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের স্টাইলেই প্রচারপত্র তৈরি করে ভোটারদের দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মুনতাসির সুমন বলছিলেন, ‘ভোটের দিনটি উৎসবমুখর হবে এমন আশা ছিল। কিন্তু আকস্মিক সুপার সাইক্লোন ফণীর আঘাতে ময়মনসিংহের প্রকৃতি বিষণ্ণ। এমন বিষণ্ণ দিন আমরা চাই না। উচ্ছ্বাস নিয়েই ভোটকেন্দ্রে যেতে চাই।’

এ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪২ জন এবং সংরক্ষিত ১১ টি ওয়ার্ডে ৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২৭টি ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৮ দলের জরিমানা, ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছবি: বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস পার হলেও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এদের মধ্যে আট দলকে জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় এক হাজার ৮৫০ জন। ভোটের পর ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই হিসাবে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। আর দলের ক্ষেত্রে সেই সময় শেষ হয় এপ্রিলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় হিসাব ইসিতে জমা দেয়। বাকি ৩৮টি দলকে ৯ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয় ইসি। ওই চিঠির পর ৩০টি দল বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে তা না দিলে দলগুলোকে সতর্ক করে এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আটটি দল ও ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব জমা দেয়নি।

এদিকে নোটিশের পরও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আট দলকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৪৪ সিসিসি (৫) অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দলগুলোকে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারপরেও অনেকে হিসাব জমা দেয়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

আর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসি। আর নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মৃধা এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে সময় চাওয়ায় তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থী সময় চেয়ে আবেদন করায় তাদের এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এছাড়াও নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
হবিগঞ্জ পৌরসভার ৩ মেয়র প্রার্থী, ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে ভোট কাস্টের আটভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তিন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) হবিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগ ও একজন বিএনপি নেতা।

নির্বাচনে ৭ হাজার ৬২১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ২০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৭ ভোট।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের পৌর মেয়র হলেন আ.লীগের মিজান

হবিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৭ হাজার ৮২০। এর মধ্যে কাস্ট হয় ২১ হাজার ১১৭ ভোট। কস্টিং ভোটেরে আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি তিন প্রার্থী। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তারা হলেন- বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ) পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মর্তুজ আলী (চামচ) পেয়েছেন ৩৯০ ভোট।

জেলা রিটানিং অফিসার মো. খোর্শেদ আলম জানান, কাস্টিং ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট না ফেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনজন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র