নলডাঙ্গায় প্রচার বৈষম্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নাটোর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ছবি: বার্তা২৪

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বাকি আর এক সপ্তাহ। উপজেলার আনাচে-কানাচে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীদের পোস্টার সাঁটানো থাকলেও উপজেলা ঘুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের আনারস প্রতীকের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে মাইকিং করা হলেও সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে নেই চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচারণা।

সোমবার (১০ জুন) নলডাঙ্গা উপজেলা ঘুরে এমন 'প্রচারণা বৈষম্য' লক্ষ্য করা গেছে।

এদিন, দুপুরে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা হয় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের। নাটোর জর্জকোর্টের ওকালতি পেশায় ব্যস্ত অবস্থায় তিনি ব্যাখ্যা করেন প্রচারণায় না থাকার কারণ। তিনি বলেন, 'একটা মাইক নিয়ে রাস্তায় নামা যাচ্ছে না। পোস্টার লাগাতে গেলে নৌকার কর্মীরা দলবেধে হামলা করছে। এটা নির্বাচনের পরিবেশ নয়। তাই দৃশ্যমান প্রচার নেই আমার।'

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ প্রার্থীই ৪ জনই আওয়ামী লীগ ঘরানার। বাকি একজন জাতীয় পার্টি সমর্থিত। তবে সকলেই সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছেন এখানে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তাদের একজন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী মহুয়া পারভীন লিপি। উপজেলা জুড়ে নেই তার একটি পোস্টারও।

তিনি বলেন, 'ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামলে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের যে আচরণ সইতে হয় আমার কর্মী-সমর্থকদের, তা প্রমাণ করতে পারব না বলে প্রচারণা চালাতে পারছি না। আপাতত এ ছাড়া আর কিছু বলার নাই।'

নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেয়া বিএনপির দুই চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর আনীত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, 'বিগত পাঁচটি বছর উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। কিন্তু তিনি এমন কোন কাজ করেননি যে নলডাঙ্গাবাসী তার প্রতি আস্থা রাখবে। অপপ্রচার চালিয়ে সহানুভূতি নিয়ে জেতার চেষ্টা করছেন তারা, যা সফল হবে না।'

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রার্থীরা কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে যা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ই জুন নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় নির্বাচনে ১ লাখ ০৩ হাজার ৪৭৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :