Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

উপজেলা নির্বাচন

ভোটের ৪ দিন আগেই এলাকায় যাচ্ছে ব্যালট

ভোটের ৪ দিন আগেই এলাকায় যাচ্ছে ব্যালট
ছবি: বার্তা২৪.কম
ইসমাঈল হোসাইন রাসেল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চারদিন আগেই এলাকায় যাচ্ছে ব্যালট ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী। তবে কোনো উপজেলায় প্রার্থী জটিলতা থাকলে ব্যালট পেপার বিতরণের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কারণ পৌরসভার কেন্দ্রগুলো শহর এলাকায় হয়ে থাকে। আর যেসব এলাকায় ভোটে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাবে সেখানেও ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠাবে কমিশন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের কয়েকটি ভোটেও সকালে ব্যালট পাঠিয়েছিল কমিশন। তবে উপজেলা নির্বাচনে কিছু এলাকার দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে আগেই ব্যালট পাঠাতে হয়।

সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন শেষে ইসির সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা রোধের জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া যেসব এলাকায় কেন্দ্র কাছাকাছি, সেখানে সকালে ব্যালট পেপার পাঠাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনগুলোয় সকালে ব্যালট পেপার পাঠাব। এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব। তাই সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো যায় কি-না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এমনকি নির্বাচনি মালামাল নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সকালে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তাকে রাতে কেন্দ্রে থাকার প্রয়োজন হবে না।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পঞ্চম ধাপের ভোটের বিষয়ে তেমন বিশৃঙ্খলার তথ্য নেই। আর এই ধাপে ইতোমধ্যে দুইটি উপজেলায় সকল পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। আর বাকি উপজেলাগুলোতেও তেমন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তাই চারদিন আগেই এসব এলাকায় ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।

ইসির ক্রয় ও মুদ্রণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম পর্যায়ের নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী তেজগাঁওয়ের গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে বিতরণ করা হবে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব সামগ্রী গ্রহণ করবেন। কোনো উপজেলায় প্রার্থী জটিলতা থাকলে ব্যালট পেপার বিতরণের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

ইসির ক্রয় ও মুদ্রণ শাখার সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশনের ক্রয় ও মুদ্রণ শাখা থেকে চালান সংগ্রহ করতে হবে কর্মকর্তাদের। ব্যালটের নিরাপত্তার স্বার্থে কাভার্ড ভ্যানে পরিবহন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি সামগ্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় পৌঁছানোর পর কোনো অসংগতি পেলে তাৎক্ষণিক অবহিতকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা শাখা-২) ফরহাদ আহম্মদ খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যালট নির্বাচনি এলাকায় যাবার পর শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয় থাকে। এছাড়া নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। নিরাপত্তার সাথে ব্যালট নির্বাচনি এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ব্যালট নির্বাচনি এলাকায় আগে চলে গেলেও ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত আগামী ১৮ জুন ২৩টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি উপজেলায় সকল পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২১ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তার আসনটি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীরা। এরশাদের আসনে কে হচ্ছেন নতুন কাণ্ডারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে হিসাব-নিকেষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার সাথে দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার পোস্টারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564575975009.gif

কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসমর্থন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়ামহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু মহাজোটের ব্যানারে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের সমীকরণ নিয়ে চিন্থিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যদিও এ নিয়ে চিন্থিত নয় বিএনপি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576017734.gif

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।

তবে এ আসনে এরশাদের পরিবারের থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক নেতা। এক্ষেত্রে এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদকে দেখা যেতে পারে ভোটযুদ্ধে। অবশ্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও চাইছেন শাদ’ই এই আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

আওয়ামী লীগ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/31/1564576058834.gif

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো করে এখনো মাঠে নামেননি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ভোটের আলোচনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান শামুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী রিটা রহমানকেও রংপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর-৩ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সংসদ সচিবালয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল

কাঞ্চন পৌরসভার নতুন মেয়র রফিকুল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ১৬ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৪৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাঞ্চনের ১৭টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান ভুঁইয়া নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমরা সকল প্রার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।' 

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা অপর ২ স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান ভূইয়া পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট ও অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ ভোট।

উল্লেখ্য, কাঞ্চন পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৮৫ জন আর আর মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৫০০ জন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র