Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

৭ই মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা

৭ই মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা
৭ মার্চ উপলক্ষে কলকাতায় আলোচনা সভা, ছবি: সংগৃহীত
সেন্ট্রাল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এ মিশনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল, কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ, কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ শফিউল ইমাম এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী।

সভাপতির বক্তব্যে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, 'ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বাঙালি জাতিকে সংঘবদ্ধ হতে সহায়তা করেছিল, ৭ মার্চে রেসকোর্স থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা না আসলে হয়তো এতো অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিরোধ ও জেগে ওঠার মানসিকতা গড়ে উঠতো না। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণমানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সেই মহাকাব্য। ৭ই মার্চের ১৯ মিনিটের সুমধুর ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্ত করে। এটি নি:সন্দেহে সমগ্র বাঙালির জন্য একটি গর্বের বিষয়, অহংকারের বিষয়।'

প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল ৭ই মার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রেখে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিভাবে দেশ স্বাধীন করতে হবে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে এ পথ বাতলে দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির মুক্তির পথ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অনন্তকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে। এ ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, সংগ্রামের চেতনা, আত্মত্যাগের প্রেরণা।'

অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ তার বক্তৃতায় বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি যে কোন বিচারেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তো বটেই বিংশ শতাব্দীতে সারা বিশ্বে যতগুলো রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়া হয়েছে তার অন্যতম ও ব্যতিক্রম। ১৯ মিনিটের এই ভাষণে একটি দেশের ইতিহাস জনগণের প্রত্যাশা ও তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রতারণা, তাদের ত্যাগ আগামী দিনের জন্য দিক নির্দেশনা সবই উঠে এসেছে।'

অনুষ্ঠানের মূল আলোচক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, '৭ই মার্চের ভাষণের সূচনাটি হয়েছিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই। কলকাতা শহরে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের সমর্থনে প্রথম সভা হয়। সেই সভায় মোহাম্মদ রিয়াজ, ইলামিত্রসহ বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিগণ বক্তৃতা করেন। ১৯০৯ সালে ভারতের আন্দামানে সেলুলার জেলে মোট বন্দী ছিল ৫৯৬ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল ৪০৬ জন। এখান থেকেই স্বাধীনতার সূত্রপাত হয়েছিল।'

আলোচনার শুরুতে এ উপ-হাইকমিশনের দুইজন কর্মকর্তা যথাক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুরে শোক দিবস পালন

বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুরে শোক দিবস পালন
জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪-তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪-তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/15/1565877828212.jpg

দিনব্যাপী কর্মসূচীর শুরুতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের বুলেটে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা ও দেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/15/1565877840539.jpg

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সরকারের কর্মকাণ্ডের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দর্শন এর উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। আলোচনা সভায় সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ভুমিকা এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের কথা শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের বর্বর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

হাই কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী ও  সংগ্রামী জীবনাদর্শ হতে শিক্ষা গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহবান জানান।

গুজরাটের বন্যায় পানিবন্দী তিনদিন

গুজরাটের বন্যায় পানিবন্দী তিনদিন
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

৩১ জুলাই, ১ এবং ২ আগস্ট—এ তিনদিন আমি পানিবন্দী হয়ে আমার হোস্টেলে বসে ছিলাম। হঠাৎ টানা তিনদিনের প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে বরোদা শহরের অধিকাংশ জায়গা পানির নিচে। ৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭/৮ ফুট পানিতে শহর ডুবে গেছে। এই শহরে ১৯২৭ সালে এমন বন্যা হয়েছিল তখন ৯০ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছিল সেই বন্যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ঘোড়াপুর’—কারণ বন্যার জল ঘোড়ার ভাস্কর্যের পা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। এত বছর পর আবার বন্যা হলো। আকস্মিকভাবে বন্যা হওয়ার পরও সরকারের তৎপরতা ছিল দেখার মতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1565003940481.jpg

আমরা সবাই যখন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আমাদের হোস্টেলের নিচের তলাতে জল চলে আসছে তখন আমরা অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। কারণ সবার আগে আমার মাথায় এসেছিল আমার রুমে চাল আছে কিনা। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত তার আগের দিন রাতেই আমার চাল শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ফরেন হোস্টেলটা মেইন হোস্টেল থেকে আলাদা। আমাদের হোস্টেলে আমরা নিজেরা রান্না করে খাই তাই চিন্তাটা বাড়ছিল। কাজের দিদিটাও এত বৃষ্টির কারণে আসতে পারেনি। আমার রুমমেট বলল তার কাছে চাল আছে। আমি ভাবলাম ঠিক আছে দেখা যাক কী হয়! কিন্তু আমার চিন্তাকে ভেদ করে ওই সময় আমাদের আইসিসিআর-এর ডিরেক্টর জিগার ইনামদার নিজে এসে হাজির হলো আমাদের সাহায্য করার জন্য। কী লাগবে, কখন কী দরকার সব কিছুর জন্য পুরোটা সময় আমাদের খোঁজ নিয়েছেন।

জিগার ইনামদার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট এবং সিন্ডিকেট সদস্য। তার পুরো টিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরোদা শহরের অধিকাংশ এলাকার জন্য কাজ করেছেন। আমাদের তিনবেলার খাবার, জল , দুধ এবং ওষুধ দিয়ে গেছেন নিজে এসে। আমি শুধু ভেবেছি তার নিজে আসার কিন্তু দরকার ছিল না কিন্তু উনি এসে বারবার সাহস দিয়েছেন। আবারও প্রমাণ করেছেন গুজরাটের আতিথেয়তা। আমি মুন্ধ হয়েছিলাম এমন নেতা দেখে। ভদ্রলোক নিজে দুদিন যাবত নিজের বাড়িতে যায়নি। ছেলেদের হোস্টেলে হেল্প সেন্টার খুলেছিল। এখানে তার টিম নিজের রান্না করেছে আমাদের সবার জন্য। আরো একটা ব্যাপার তখন ঘটেছিল সেটা হলো এখানে প্রচুর কুমির আছে আশে পাশের নদীতে। বন্যা হবার কারণে সব কুমির শহরে ঢুকে পড়েছিল এই অবস্থাতে নিচে জলে পা রাখার কথা ভাবতে পারছিলাম না, কিন্তু সেই অবস্থায় তারা জলের মধ্যে হেঁটে এসে সাহায্য করে গেছে।

ঈর্ষণীয় বর্ষাগুলো বাংলাদেশের

এখানে অনেকের বাড়িতে কুমির উঠে গিয়েছিল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? কুমিরগুলোকে কেউ মারেনি। ফরেস্ট অফিসাররা এত তৎপর ছিল যে তারা এসে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের হোস্টেলের পেছনেও কুমির পাওয়া গেছিল। এখানে এসে আমার শুধু একটা কথাই মনে হয়েছিল যে, আমাদের দেশে হলে আমরা কুমিরগুলোকে এতটা সুরক্ষা দিতে পারতাম কিনা। আমার নিজস্ব উপলব্ধির কথা বললাম। গুজরাট (পুরো ভারতের কথা জানি না) প্রকৃতিকে সংরক্ষণের চেষ্টা করছে আর আমরা গাছ কেটে বন উজাড় করে বেড়াচ্ছি।

বন্যায় তিনদিনে এদের ক্ষতি হয়েছে ৫০০০ কোটি রুপি। এখনো অনেক জায়গায় বন্যা আছে। শহরের পানি কমে গেছে। এত কিছুর পর আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে—আমার দেশ সেই কবে থেকে বন্যার কবলে, কত হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী, চলছে ডেঙ্গুর মাহামারি। আমার দেশেও এরকম কার্যকর তৎপরতা, সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র