Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

গুজরাটের চিঠি

ঈর্ষণীয় বর্ষাগুলো বাংলাদেশের

ঈর্ষণীয় বর্ষাগুলো বাংলাদেশের
অলঙ্করণ কাব্য কারিম
মিতু কর্মকার


  • Font increase
  • Font Decrease

এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে এসে টিভির চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ একটা চ্যানেলে হিন্দি সিনেমা ‘গুজারিশ’ চলতে থাকায় থামলাম। সিনেমাটা আগেও দেখেছি কিন্তু আজকে একটা দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। এই সিনেমায় নায়ক হৃত্বিক রোশন একজন প্যারালাইজড ম্যাজিশিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দৃশ্যটা এমন—রাতে বৃষ্টি হচ্ছে ছাদ থেকে পানি টপ টপ করে প্যারালাইজড ম্যাজিশিয়ানের কপালে পড়ছে। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। সবাইকে চিৎকার করে শুধু ডাকছে কিন্তু বাড়িতে থাকা দুটি মানুষের কেউ-ই ঝড় বৃষ্টির শব্দের কারণে তার সেই চিৎকার শুনতে পাচ্ছে না। সারারাতভর বৃষ্টির জলের ফোঁটা তার কপালে পড়তেই থাকল। আমাদের সবার জীবনে কখনো কখনো বোধহয় এমন অনেক বৃষ্টি আসে যেখান থেকে আমরা আমাদের মাথাটা সরাতে পারি না। টিপ টিপ বৃষ্টির জল পড়তে থাকে আর আমাদের সহ্য করে যেতেই হয়। এত গেল জীবন বোধের বৃষ্টির ভাবনা। কিন্তু এখানে সত্যিকারের বৃষ্টিটা বড্ড ভাবায়। কে বলবে এখন বর্ষকাল! খাঁ খাঁ রোদে এখানে জীবন অতীষ্ট। গুজরাট মানে বরোদা-জীবনে আমি একটা ভোগান্তি কখনো ভুলব না, তা হলো গরম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623556920.jpg

যেখানে বাংলাদেশে বৃষ্টির জলে রাস্তায় নৌকা চলার অবস্থা আর সেখানে আমি প্রচণ্ড গরমে মাঝরাতে উঠে বসে থাকে। আর মনে মনে কল্পনা করতে থাকি এই বুঝি ঝুম বৃষ্টি শুরু হবে আর শান্তিতে পাতলা একটা কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ব। কল্পনা করতে করতে কখন আবার দু-চোখ জুড়ে গরমের ক্লান্তিতে ঘুম চলে আসে সেটাও টের পাই না। এখানে বৃষ্টি একদমই হয় না, তেমনটা না। হয় পাঁচ দশ মিনিটের বৃষ্টি। সারাদিনে দু-তিনবারও হয়। কিন্তু তেমন বৃষ্টি দেখে মনে হয় এখানকার মানুষদের যদি আমি আমার গ্রামের মাঠঘাট উপচে পড়া ঝুম বৃষ্টি দেখাতে পারতাম! বা বৃষ্টিতে টিএসসি, দোয়েল চত্বরে নিয়ে যেতে পারতাম তাহলে বৃষ্টির আসল রূপ দেখাতে পারতাম। বৃষ্টির কত যে স্মৃতি মাথায় এসে ভিড় করে।

জানি দেশে বৃষ্টিতে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, এমনকি তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, কিন্তু আমার মতো মানুষের জন্য দেশ থেকে কয়েকশো মাইল দূরে বসে বৃষ্টি কতটা আকাঙ্ক্ষার বস্তু তা যেন বোঝানো সম্ভব না। জীবনে যা থাকে না সেটাই হয়তো মুখ্য হয়ে ওঠে, বোধহয় এটাই জীবন।

প্রিয়তমেষু বাংলাদেশ

গুজরাটের বৃষ্টিতে গাছপালা খুব সুন্দর হয়ে যায়। এখানকার গাছের পাতাগুলো শুধুমাত্র বর্ষার সময়ই আমার দেশের গাছের পাতার মতো চির সবুজ হয়ে ওঠে। চোখ জুড়িয়ে যায়। বছরের বাকিটা সময় খুব মলিন লাগে, যেমনটা আসলে শুষ্ক অঞ্চলের হয়েই থাকে। বরোদা খুব পরিছন্ন শহর। এখানে ধুলাতে গাছের পাতা ধুলাময় হয় না যেমনটা আমাদের হয়। কিন্তু এত কিছু পরও যেন এই পাতাগুলোতে আমার দেশের গন্ধ নেই। মন কেমন করে ওঠে ছোট সবুজ পাতার জন্য। বর্ষা শুরু হলে আমার বেলীফুল আর দোলনচাঁপার জন্য মন কেমন করে। এখানে বেলীফুল আছে কিন্তু বেলীফুলের মালা নেই। এখানে কেউ হাতে চুলে বেলীফুলের মালা পরে ঘুরে বেড়ায় না। যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের মানুষের বৃষ্টিমাখা পোস্টগুলো দেখি তখন আমার মনে হয় টাঙ্গাইলের তাঁতের একটা শাড়ি পরে চুলে ও হাত ভরে বেলীফুলের মালা জড়িয়ে টিএসসিতে চলে যাই। কিন্তু বাস্তবতা বলে অন্য কথা। সময় তার আপন গতিতে চলে। মনে মনে শুধু বলার থাকে ঈর্ষণীয় বর্ষাগুলো বাংলাদেশেই থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুরে শোক দিবস পালন

বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুরে শোক দিবস পালন
জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪-তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪-তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/15/1565877828212.jpg

দিনব্যাপী কর্মসূচীর শুরুতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের বুলেটে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা ও দেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/15/1565877840539.jpg

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সরকারের কর্মকাণ্ডের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দর্শন এর উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। আলোচনা সভায় সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ভুমিকা এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের কথা শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের বর্বর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

হাই কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী ও  সংগ্রামী জীবনাদর্শ হতে শিক্ষা গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহবান জানান।

গুজরাটের বন্যায় পানিবন্দী তিনদিন

গুজরাটের বন্যায় পানিবন্দী তিনদিন
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

৩১ জুলাই, ১ এবং ২ আগস্ট—এ তিনদিন আমি পানিবন্দী হয়ে আমার হোস্টেলে বসে ছিলাম। হঠাৎ টানা তিনদিনের প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে বরোদা শহরের অধিকাংশ জায়গা পানির নিচে। ৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭/৮ ফুট পানিতে শহর ডুবে গেছে। এই শহরে ১৯২৭ সালে এমন বন্যা হয়েছিল তখন ৯০ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছিল সেই বন্যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ঘোড়াপুর’—কারণ বন্যার জল ঘোড়ার ভাস্কর্যের পা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। এত বছর পর আবার বন্যা হলো। আকস্মিকভাবে বন্যা হওয়ার পরও সরকারের তৎপরতা ছিল দেখার মতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1565003940481.jpg

আমরা সবাই যখন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আমাদের হোস্টেলের নিচের তলাতে জল চলে আসছে তখন আমরা অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। কারণ সবার আগে আমার মাথায় এসেছিল আমার রুমে চাল আছে কিনা। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত তার আগের দিন রাতেই আমার চাল শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ফরেন হোস্টেলটা মেইন হোস্টেল থেকে আলাদা। আমাদের হোস্টেলে আমরা নিজেরা রান্না করে খাই তাই চিন্তাটা বাড়ছিল। কাজের দিদিটাও এত বৃষ্টির কারণে আসতে পারেনি। আমার রুমমেট বলল তার কাছে চাল আছে। আমি ভাবলাম ঠিক আছে দেখা যাক কী হয়! কিন্তু আমার চিন্তাকে ভেদ করে ওই সময় আমাদের আইসিসিআর-এর ডিরেক্টর জিগার ইনামদার নিজে এসে হাজির হলো আমাদের সাহায্য করার জন্য। কী লাগবে, কখন কী দরকার সব কিছুর জন্য পুরোটা সময় আমাদের খোঁজ নিয়েছেন।

জিগার ইনামদার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট এবং সিন্ডিকেট সদস্য। তার পুরো টিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরোদা শহরের অধিকাংশ এলাকার জন্য কাজ করেছেন। আমাদের তিনবেলার খাবার, জল , দুধ এবং ওষুধ দিয়ে গেছেন নিজে এসে। আমি শুধু ভেবেছি তার নিজে আসার কিন্তু দরকার ছিল না কিন্তু উনি এসে বারবার সাহস দিয়েছেন। আবারও প্রমাণ করেছেন গুজরাটের আতিথেয়তা। আমি মুন্ধ হয়েছিলাম এমন নেতা দেখে। ভদ্রলোক নিজে দুদিন যাবত নিজের বাড়িতে যায়নি। ছেলেদের হোস্টেলে হেল্প সেন্টার খুলেছিল। এখানে তার টিম নিজের রান্না করেছে আমাদের সবার জন্য। আরো একটা ব্যাপার তখন ঘটেছিল সেটা হলো এখানে প্রচুর কুমির আছে আশে পাশের নদীতে। বন্যা হবার কারণে সব কুমির শহরে ঢুকে পড়েছিল এই অবস্থাতে নিচে জলে পা রাখার কথা ভাবতে পারছিলাম না, কিন্তু সেই অবস্থায় তারা জলের মধ্যে হেঁটে এসে সাহায্য করে গেছে।

ঈর্ষণীয় বর্ষাগুলো বাংলাদেশের

এখানে অনেকের বাড়িতে কুমির উঠে গিয়েছিল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? কুমিরগুলোকে কেউ মারেনি। ফরেস্ট অফিসাররা এত তৎপর ছিল যে তারা এসে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের হোস্টেলের পেছনেও কুমির পাওয়া গেছিল। এখানে এসে আমার শুধু একটা কথাই মনে হয়েছিল যে, আমাদের দেশে হলে আমরা কুমিরগুলোকে এতটা সুরক্ষা দিতে পারতাম কিনা। আমার নিজস্ব উপলব্ধির কথা বললাম। গুজরাট (পুরো ভারতের কথা জানি না) প্রকৃতিকে সংরক্ষণের চেষ্টা করছে আর আমরা গাছ কেটে বন উজাড় করে বেড়াচ্ছি।

বন্যায় তিনদিনে এদের ক্ষতি হয়েছে ৫০০০ কোটি রুপি। এখনো অনেক জায়গায় বন্যা আছে। শহরের পানি কমে গেছে। এত কিছুর পর আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে—আমার দেশ সেই কবে থেকে বন্যার কবলে, কত হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী, চলছে ডেঙ্গুর মাহামারি। আমার দেশেও এরকম কার্যকর তৎপরতা, সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র